sliderস্থানিয়

আলোচিত দুই মামলার প্রধান আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা ‘ফেন্সি সামির’ কারাগারে

সোহেল রানা,সাভার : ঢাকার সাভারে আলোচিত দুটি মামলার প্রধান আসামি, বহিষ্কৃত সাভার থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামিরকে (৩৫) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে দীর্ঘ ৯ দিন আত্মগোপনে থাকার পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর সদরঘাট জংশন রোড এলাকা থেকে জেলা পুলিশের নির্দেশে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, শামীম রেজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা, লুটপাট, ২৩টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি ও একটি মোটরসাইকেল লুটের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কিশোর অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনাসহ তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্য মামলাগুলোতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

গ্রেপ্তার মাহাবুব হোসেন সামির সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন সাভার মডেল থানায় লাবনী বেগম একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, তার খালাতো ভাই শামীম রেজার কাছ থেকে মাদক ব্যবসায়ী ভাইয়ের জামিন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন মাহাবুব হোসেন সামির। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার নেতৃত্বে একাধিক দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ মে রাজাশন আমতলায় শামীম রেজার বাড়ি ও গ্যারেজে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ লুট, ভাঙচুর এবং ১২টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ২৭ মে আরও ছয়টি অটোরিকশা, ১২ জুন আরও পাঁচটি অটোরিকশা এবং ১৬ জুন প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি এবং একটি মোটরসাইকেল লুট করা হয়। ১২ জুন একই রাতে শামীম রেজার বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মারধর, নারী লাঞ্ছনা, শিশুকে আছাড় দেওয়া এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনার তদন্ত শেষে মাহাবুব হোসেন সামিরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা, নারী লাঞ্ছনা ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, গত ২ জুন রিপন ঋষি নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী কিশোরকে অপহরণ করে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগেও মাহাবুব হোসেন সামির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি মামলা হয়। দুটি মামলাই সাভারজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনার পর সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মাহাবুব হোসেন সামিরকে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও চলতি দায়িত্বে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, “আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে রিমান্ড আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে পলাতক অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া অটোরিকশা, ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কাউকেই আইনের আওতার বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তে নতুন তথ্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button