অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

আলুর দাম আরো বাড়াতে চায় সিন্ডিকেট!

মুন্না রায়হান : দেশে চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত আলু থাকলেও পণ্যটির দাম আরো বাড়াতে চায় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট কৃষকের লোকসান হচ্ছে এমন অজুহাতে হিমাগার পর্যায়ে আলুর দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিন্ডিকেটের কারসাজিরোধে সরকার দর নির্ধারণ করে দিলেও হিমাগার থেকে আলু ছাড় করা হচ্ছে না। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশের বাজারে আলুর সরবরাহ কমে গেছে বলে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। তবে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা জানিয়েছেন, সরকার হিমাগার পর্যায়ে আলুর যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছে তাতে কৃষকের লোকসান হচ্ছে। তারা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই আলু চাষ করে কৃষক লোকসান গুনছে। এবার আলুর চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে। কিন্তু সরকারনির্ধারিত দরে আলু বিক্রি করলে কৃষক লাভের মুখ দেখবে না। তাই হিমাগার পর্যায়ে দাম বাড়ানো উচিত।
উল্লেখ্য, দেশে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত আলু মজুত থাকলেও গত প্রায় এক মাস ধরে লাগামহীনভাবে বাড়ছে সবজি জাতীয় এই পণ্যটির দাম। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। অথচ গত বছর এই সময় প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে গত এক বছরে প্রতি কেজি আলুর দাম বেড়েছে ১১১ শতাংশ। চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেলের পর আলুর এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে রীতিমতো ভোগান্তিতে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছর দেশের চার দফা বন্যায় উত্তরাঞ্চলসহ ৩৭টি জেলার সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে এবার ৫০ টাকার নিচে কোনো ধরনের সবজি নেই। আর এর প্রভাব পড়েছে আলুর ওপর। আরেকটি কারণ হলো, করোনায় শ্রমজীবী মানুষরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় তারা কম দামের জন্য আলুর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এসব কারণে করোনার সময় মার্চের শুরুতে প্রতি কেজি আলুর দাম ২০ টাকা থাকলেও এখন তা মানভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
তবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানিয়েছে, আলুর দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। গত মৌসুমে দেশে ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উত্পাদিত হয়েছে। আর আলুর চাহিদা প্রায় ৭৭ লাখ টন। এ হিসেবে প্রায় ৩২ লাখ টন আলু উদ্বৃৃত্ত থাকে। এসব কিছু বিবেচনায় কোল্ড স্টোরেজ গেটে প্রতি কেজি আলু ২৩ টাকা আর পাইকারি বাজারে ২৫ টাকা কেজি দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ভোক্তারা এই আলু কিনবেন ৩০ টাকায়।
তবে কোল্ডস্টোরেজ মালিকরা হিমাগার পর্যায়ে আলুর দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। মুন্সিগঞ্জের একটি কোল্ডস্টোরেজের স্বত্বাধিকারী আসিফ জসিম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আলুতে লোকসান হওয়ায় কৃষক এবার আলুর আবাদ কম করেছে। কিন্তু বন্যা ও করোনার কারণে আলুর চাহিদা বেড়েছে। তিনি বলেন, কৃষক যখন লোকসান করে তখন তো সরকার দাম বেঁধে দেয় না। এখন তাহলে দাম বেঁধে দিচ্ছে কেন? তাছাড়া যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছে তাতে তো কৃষকের লোকসান হচ্ছে।
বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোজাম্মেল বলেন, কৃষকের কথা বিবেচনা করে হিমাগার পর্যায়ে সরকারের আলুর দাম বাড়ানো উচিত। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা আজ মঙ্গলবার কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করব।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকার এরই মধ্যে আলুর যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছে তা কার্যকর হয়নি। এখনো বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারনির্ধারিত দাম আরো বাড়ালে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সুত্র : ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button