Uncategorized

আলীকদমে লাম্পি স্কিন(এসএসডি) রোগের প্রাদূর্ভাব : দুশ্চিন্তায় গরুর মালিকেরা

আলীকদম প্রতিনিধি : বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় সদর ও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে গরুর লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি)। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্য অনুসারে গত এক মাসে সদর এবং বিভিন্ন এলাকায় এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬৮০টি গরু। এর মধ্যে মারা গেছে ৩টি গরু। এ রোগের প্রতিষেধক ও সঠিক ওষুধ না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরুর মালিকরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪টি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৮০টি গরুকে লাম্পি স্কিন এর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ৩টি গরুর বাচুর এ রোগে মারা গেছে। এই রোগটি মশা-মাছি ও পোকার মাধ্যমে ছড়ায়। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা ১০৩-১০৫ ডিগ্রিতে বেড়ে দাঁড়ায়। গরু খাওয়া বন্ধ করে দেয়। শরীরে প্রচ- জ্বর আসে। পাশাপাশি গরুর শরীরের বসন্তের মতো গুটি গুটি চাকা দেখা দেয়। পরে সেখান থেকে পুঁজ জমে ফেটে গিয়ে মাংস খসে পড়ে। ফলে দুধ উৎপাদনও কমে যায়।
অনুসন্ধানের ভিত্তিতে খোঁজ নিতে গিয়ে গরুর মালিক ছাবের আহামদ জানান, এই রোগটির সম্পর্কে তিনি তেমন কিছুই জানেন না। বিগত মাস দুয়েক আগে তার গাভীর গর্দানে একটি ফোস্কার মতো উঠে। পরে সেটির চামড়া উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়, খাওয়া বন্ধ করে দেয় গাভিটি। স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ানোর পর গাভিটি সুস্থ হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে বাচুরের সারা শরীরে ফোস্কার মতো দেখা দেয়। বাচুরটি এক প্রকারে দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসে নিয়ে গেলে জানা যায়, এ রোগের নাম লাম্পি স্কিন বা এলএসডি। উপজেলা প্রাণী সম্পদ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে বাচুরটি সুস্থ আছে।
আলীকদম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক ডাঃ রূপম চন্দ্র মহন্ত জানান, এটি ভাইরাসজনিত একটি রোগ। মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গের মাধ্যমে গরুর শরীরের ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগটি শুধু আলীকদমে নয়, সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগের টিকা আমাদের দেশে নেই। তাই আক্রান্ত গরুকে মশা-মাছি থেকে দূরে রাখতে হবে। তবে প্রপার চিকিৎসা নিলে এ রোগ ভালো হয়ে যায় বলে জানান।।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button