আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

‘আমি সহসাই সুযোগ পেয়ে গেলাম’

কাজল ঘোষ
আমরা ত্বরিত পূর্বাভাস প্রক্রিয়ায় জানতে পারি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মটগেজ সার্ভিসে যুক্তদের বেশির ভাগেরই আনুষ্ঠানিক কোনো প্রশিক্ষণ নেই। আর তা ওয়ালমার্টের শ্রমিক থেকে শুরু করে হেয়ার স্টাইলিস্ট পর্যন্ত। অভিজ্ঞ পূর্বাভাস প্রদানকারীরা তাদের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হয়ে পূর্বাভাস প্রদান করে থাকে।
রোবো সাইনাররা তাদের অনুসন্ধানে জানতে পারে, সেসব কর্মকর্তাদের যেসব নথিপত্র অনুমোদন করতে হয় সে সম্পর্কে তাদের ধারণাই নেই কিংবা সামান্য ধারণা রয়েছে। তাদের কাজ নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করা বা বোঝা ছিল না। তাদের কাজ শুধু স্বাক্ষর করা বা অন্য কোনো টেবিলে পাঠানো। তারা ঘণ্টা প্রতি ১০ ডলার পেতো এবং বোনাস পেতো। তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। তাদের কোনো স্বচ্ছতা ছিল না।
আইনেরও কোনো ঝামেলা ছিল না। ব্যংকের কথা হচ্ছে, যতো দ্রুত তাদের মন্দ ঋণ প্রদান করতে পারবে ততো দ্রুত তাদের শেয়ারের মূল্য বাড়বে। তাতে যদি আরো আইন ভঙ্গ করতে হয়, ভঙ্গ হোক।
আমাকে এটি প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছিল যখন বুঝতে পারলাম। ব্যাংকগুলো জরিমানাকে ব্যবসায়ের একটি আনুষঙ্গিক খরচ হিসাবে দেখে। আমার কাছে দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে গেলো এটিই হচ্ছে তাদের ভিত্তি। ওয়াল স্ট্রিট সংস্কৃতির পরিষ্কার চিত্র এতে উঠে আসে। এবং এ নিয়ে খুব কমই ভেবেছে। যাও বা হয়েছে তাও হচ্ছে বেপরোয়া এবং লোভের দু’একটা ঘটনা।
আমি এটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের খুব কাছ থেকে দেখেছি। সেখানে আমরা এই ঋণ খেলাপিদের দায়মুক্তি দেয়ার জন্য কাজ করতাম। ২০০৯ সালে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হিসাবে আমি একটি ‘মটগেজ ফ্রড ইউনিট’ গঠন করি। ফেডারেল গভর্নমেন্টের যেখানে হস্তক্ষেপের ইতিহাস ছিল না সেখানেই আমরা হাত দেয়ার চেষ্টা করেছি। তবে আমি প্রতারকচক্রের যে প্রধান তাকে ধরার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। যে সকল ব্যাংক এসব কার্যক্রমে যুক্ত ছিল তারাই ছিল আমার টার্গেট। আমি সহসাই একটি সুযোগ পেয়ে গেলাম।
২০১০ সালের ১৩ই অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি প্রদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলরা একাধিক রাজ্যে তদন্তের জন্য সম্মত হলো। দেশজুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিস্তৃত একটি অভিযান যা এই সংকটের পেছনে ব্যাংকগুলোর দায়কে উন্মুক্ত করবে। আমি এই লড়াইয়ে যোগ দেয়ার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। তবে সেখানে ছোট্ট একটি সমস্যা ছিল। সেটি হচ্ছে আমি এখনো ক্যালিফোার্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল হইনি। আমি যখন প্রচারণার একদম মাঝামাখি তখনই ‘মাল্টি স্ট্যাট অ্যানাউন্সমেন্ট’ ঘোষণাটি আসে। এখনো নির্বাচনের তিন সপ্তাহ বাকি। ধারণা করা যাচ্ছে যে, নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি
‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে।
সুত্র: মানবজমিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button