
আমিন আহমেদ ইয়ান : মুক্তগদে্যর কথাসাহিতিক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক জামাল উদ্দিন জামাল দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন।
১৯৮৮ সাল থেকে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু। সে সময় থেকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকায় নানা বিষয়ের উপর লেখালেখি শুরু করেন। ইতিমধে ̈প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প ও নাটক মিলে তাঁর সাতটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এবার প্রকাশ পেল ‘আমার দেখা আমার শেখা’। জামাল ছাত্রজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ছিলেন প্রথম সারির ছাত্রনেতা।
পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন।
গ্রন্থে যেমন তাঁর জীবন কথা ̄স্থান পেয়েছে তেমনি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও বক্তিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের তিনি যে সব বরেণ্য ̈ ব্যক্তির সান্নিধে ̈ ছিলেন, তাঁদের চারিত্রিক ̧ণাবলিও ̄স্থান পেয়েছে। এসব বক্তিত্বের মধে ̈রাজনীতিবিদদের আধিক্য ̈ থাকলেও চিত্রনায়ক, সংগীত শিল্পী, সাংবাদিক ও সাহিতিকসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের কুশলীরাও রয়েছেন। লেখক সবার ইতিবাচক দিক ̧তুলে ধরেছেন। মানুষ নিজ ̧ণে সবাইকে বিচার করে, জামাল একজন সহজ-সরল মানুষ। পঁচাগলা দুর্গন্ধময় সমাজের সঙ্গে তিনি পরিচিত নন। তিনি নোংরামি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে সচেষ্ট। জামাল একাধারে সাংবাদিক, লেখক, নাট্যকার ও রাজনীতিবিদ।
বর্ণাঢ ̈ জীবনের অধিকারী। অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারি হওয়াই ̄স্বাভাবিক। তিনি করোনাকালীন ̄স্থবির পৃথিবীর কথাও বর্ণনা করেছেন। বর্ণনা করেছেন ‘চিরচেনা প্রিয় রাজধানী ঢাকা’র কথা। অচেনা হয়ে গেল ঢাকা। রাতের বেলায় মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। শুধু দু-একটা অ ̈াম্বুলেন্স দেখা যায়।’ লেখা ̧লো মানুষের অন্তরকে ̄úর্শ করবে। ছাত্ররাজনীতি করতে গিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন। লিখেছেন হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার একটি অধ্যায়। এই অধ্যায় পড়ে পাঠক কখনো হাসবে, কখনো কাঁদবে। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কথা তুলে ধরেছেন। এরশাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় লেখকের যে ভালো দৃষ্টিভঙ্গি জন্মে, সে সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। এটি সতি্যই মনোমুগ্ধকর একটি লেখা। এইচ এম এরশাদই প্রথম বিচার বিভাগকে গ্রাম-গ্রামান্তরে ছড়িয়ে দেন তাঁর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে যঁারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছেন, তাঁরা কোনো কোনো সময় উপজেলা পদ্ধতি বাতিল করলেও আবার তা পূনর্বহাল করেছেন। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থ্যা ও কিছু প্রচার মাধ্যমের কারণে আমরা অনেক সময় দেশের বরেণ ̈ মানুষদের ভুল বুঝে থাকি। কিšদ তাঁরা সবাই এদেশের সন্তান, একথা ভুলে যাই রাজনীতি ও মিডিয়ার বলয়ে এসে তাঁদের সম্পর্কে ভুল সিদ্ধান্ত পড়ে যাই।
তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় এরশাদ যে অবদান রেখেছেন, তা অ ̄^ীকার করার উপায় নেই। ইতিহাসে সে কথা থাকবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মিজানুর রহমান চৌধুরী বাংলাদেশের রাজনীতির একজন পরিচিত ও প্রবীণ মুখ। তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের পরামর্শ দিতেনÑ ‘বাতাস যখন নৌকার পক্ষে থাকে না বা বাতাস প্রবাহিত হয় না, তখন ন টেনে টেনে অনেক কষ্ট করে নৌকাকে গন্তবে ̈ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আবার বাতাস যখন নৌকার প্রতিকূলে বা বিপক্ষে প্রবাহিত হয় এবং পানির ে ্̄রাতের বিপক্ষে যায় তখন মাঝি নোঙর ফেলে বসে থাকে।
একদিন দুদিন বা তারও বেশি অপেক্ষা করে। রাজনীতিও তাই। রাজনীতিতে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে ছিটকে পড়বে।’ (পৃষ্ঠা ২২)। এমন শিক্ষা লেখক এবং তাঁর অনুসারীরা পেতেন। তবে এটি সবার জন ̈ শিক্ষণীয়।
‘সাপ্তাহিক আকর্ষণ’-এর জন ̈ একবার লেখক ব ̈ারিস্টার মওদুদ আহমদের সাক্ষাৎকার নেন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে লেখকের সৌহার্দ ̈ তৈরি হয়। লেখক মন্তব ̈ করেনÑ ‘যতটুকু দেখেছি তাঁর বুদ্ধি ও মেধা দিয়েই রাজনীতিতে অব ̄’ান করে নিয়েছিলেন, লেখকের দৃষ্টিতে ব ̈ারিস্টার মওদুদ আহমেদ একজন তীক্ষèধী ব ̈ক্তিত্বের রাজনীতিবিদ হিসেবে মনে হয়েছে।
কাজী জাফর আহমদ লেখকের কাছে বিরাট এক মহিরুহ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন তাঁর পাশাপাশি চলবার সময় লেখক তাঁর অনেক ̧ণাবলির পরিচয় পেয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে লেখকের বক্তব ̈ এইরকমÑ ‘কারো চাকরি বা চিকিৎসার জন ̈ অথবা কোনো অর্থের প্রয়োজন হলে তাঁর জন ̈ কাজ করতে দেখেছি। সেখানে জাফর ভাই কোনো ধরনের আইওয়াশ বা কোনো ছলচাতুরির প্রশ্রয় নেননি।’ (পৃষ্ঠা-৩০)। তাকে লেখক কোনোদিন কোনো প্রতিশোধমূলক কাজ করতে দেখেননি।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম, আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক আচরণ লেখকের মনে গভীর রেখাপাত করে যা তিনি সারাজীবন মনে রাখবেন। টাঙ্গাইলের জাকির হোসেনের মানসকে তিনি দেখেছেন ফসলের মাঠের মতো বি ̄Í…ত হৃদয়ের মানুষ।
বইয়ের প্রান্তের অধ ̈ায়ে লেখকের ব ̈ক্তিগত জীবনের কিছু আলেখ ̈ রয়েছে। সেখানেও তাঁর বিচিত্র অভিজ্ঞতা বইটিকে আরও তাৎপর্যময় করেছে। জামাল উদ্দিন জামাল এখানে বিশিষ্ট মানুষদের সং ̄úর্শে এসে তঁ াদের জীবনের সাথে নিজে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট হয়ে তঁ াদের বড় করে তুলেছেন। মহত্বের আলোকে প্রসারিত করেছেন। কথায় নয়, তাঁর উপলব্ধি বিভিন্ন কাজে। বিভিন্ন সময় তাঁদের আচরণ বিশ্লেষণ করেছেন। নিজেকে একজন আলোকময় মুক্তমনের লেখক হিসেবে আমাদের সামনে ধরা দিয়েছেন। তাঁদের মঙ্গল প্রদীপ জ¦ালাতে জ¦ালাতে, তাদের মহৎ করে তুলতে তুলতে লেখক নিজেই এখানে ভা ̄^র হয়ে উঠেছেন। বইটি বেশ পাঠকপ্রিয়তা পাবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। যঁ াদের কথা লিখেছেন, তাঁদের কিছু দুর্ল ভ ছবিও এতে ̄স্থান
পেয়েছে। ছবি ̧লো ইতিহাসের সত ̈তার ̄^াক্ষর বহন করে। আমাদের দেশের ইতিহাসেরও একটি অনুষঙ্গ হবে বইটি। বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। চার রঙের চমৎকার প্রচ্ছদ এঁকেছেন সোহেল আশরাফ, প্রকাশ করেছে ‘নয়াপ্রবাহ’ প্রকাশনী । ̧




