sliderমতামতশিরোনাম

আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত জাতি হিসেবে পরিচিত হতে চাই

শাহীন রাজা : না। আমরা বাংলাদেশকে কারো চোক দিয়ে দেখি না। আমরা, আমাদের চোখ দিয়েই বাংলাদেশ দেখি। কারো চোখ দিয়ে দেখার প্রশ্নই আসে না।

এছাড়া বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের অষ্টম একটি দেশ। এবং এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগামী ভূখন্ড। বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণ নিজ যোগ্যতায় আমাদের বন্ধু । যুক্তরাষ্ট্রের রিয়ার এডমিরাল এইলেন লুবাচার ইংরেজি দৈনিক ‘ নিউ এজ-এর’ সাথে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন।

অথচ মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিশা রাইস ভারত সফরের বলেছিলেন, এই অঞ্চল আমরা ভারতের চোখ দিয়ে দেখতে চাই ! এই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের সাথে ” সামাজিক পারমাণবিক ” চুক্তি করে। কন্ডোলিসা বলেন, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর যুক্তরাজ্যের চোখ দিয়ে আমরা ইউরোপ দেখেছিলাম। এক্ষেত্রে- ও তেমনটাই। ভারতকে সাথে নিয়ে আমাদের পথচলা।

কন্ডোলিসা থেকে এইলেন লুবাচার। খুব দীর্ঘ না হলেও বেশ ক’বছর পার হয়ে গেছে। এরমাঝে মরণঘাতী ভাইরাস ” কোভিড- ১৯ ” পৃথিবীর জনপদ তছনছ করে দিয়েছে। এই দুর্যোগ শেষ হতে না হতেই শুরু হয়। রাশিয়া উইক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতি বিভাজিত হয়ে ওঠে। রাশিয়া – চীনের নেতৃত্বে একটি মোর্চা। অপরদিকে পশ্চিম ইউরোপকে সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আরেক মোর্চা। রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের পাল্টাতে থাকে পুড়ানো সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের অভিমানের বরফ গলে আবারও নতুন প্রেম। বিশ্বাস, অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে দুলতে বিশ্ব ক্রমশই অন্ধকার টানেলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই দামামা আওয়াজের বাইরে বা বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির বাইরে বাংলাদেশ ও নয়। থাকাও সম্ভব নয়।

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি হচ্ছে, বানিজ্য নিশ্চিত করতে ভৌগোলিক সীমারেখায় নিয়ন্ত্রণ। এই কারণেই উইক্রেন যুদ্ধ। রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে পূর্ব ইউরোপে একচেটিয়া বানিজ্য স্থাপন। যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা ইউরোপের দেশগুলো উইক্রেনের উপর ভর করে। রাশিয়া নিজের আধিপত্য বজায় রাখার জন্যই আন্তর্জাতিক সকল নিয়ম নীতি ভেঙে উইক্রেনে সামরিক অভিযান উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেকে আবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় শঙ্কিত।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। পরাশক্তি দেশগুলো বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছে। আসলে এর পেছনে মূল হচ্ছে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান। রাজনীতি তাদের কাছে মূখ্য নয়।
বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক দানব, চীন ! এই দানবকে রুখার জন্য মার্কিন এবং তার মিত্র শক্তিরা মরিয়া। একদিকে ভারত মহাসাগরের নিয়ন্ত্রণ। কেননা বিশ্ব বানিজ্যের বিশাল অংশের রুট হচ্ছে ভারত মহাসাগর। তাই এর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। বঙ্গোপসাগর যার নিয়ন্ত্রণে থাকবে সেই ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। একারণে পরাশক্তি দেশগুলোর বাংলাদেশের উপর নজর। এছাড়া রাজনৈতিক এবং সামরিকভাবে যদি মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণ নেয়া যায় তাহলে, এইদিকে চীনের অগ্রগতি থমকে দেয়া যায়। এটাকে লক্ষ্য রেখেই রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টি।

এদিকে রাখাইন অঞ্চল – চীন,রাশিয়া এবং ভারতের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। সার্কভুক্ত দেশগুলো লক্ষ্য রেখে চীন এখানে বিশাল বানিজ্যিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। ভারতের বিচ্ছিন্নবাদীরা যাতে আশ্রয় না পায় তার নিশ্চয়তা লাভ। এবং রাখাইন থেকে গ্যাসের নিয়মিত সরবরাহ। এদিকে রাশিয়ার ভাবনা, রাখাইন অঞ্চল চীন, ভারতের নিয়ন্ত্রণ থাকার অর্থই হচ্ছে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিশ্চিন্ত। এ কারণেই এখান থেকে রোহিঙ্গা উচ্ছেদ। বিভিন্ন বিদ্রোহী জাতিগোষ্ঠী দমন।
তাই এই তিনটি দেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও জাতিসংঘের সভায় বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয় না। সব সময় ভারত ভোট দানে বিরত থাকে। চীন এবং রাশিয়া মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দেয়।

আজকের পৃথিবীতে আবেগের কোন স্থান নেই। আমেরিকার সাথে ভিয়েতনাম ২৫ বছর যুদ্ধ করলো। চীন এই যুদ্ধে ভিয়েতনামকে সবধরনের সহযোগিতা করে। কিন্তু আজ ভিয়েতনামের সব থেকে বড় উন্নয়ন সাথী, আমেরিকা। চীনের সাথে শীতল সম্পর্ক।
সার্বিক বিবেচনায়, যার বন্ধুত্ব আমাদের স্থায়ী উন্নয়ন দেবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হবে। গণতন্ত্র ও মানবিক স্বাধীনতা অবাধ এবং প্রবাহমান হতে সহযোগিতা করবে। তাদের সাথেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে। আমরা একটা আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত জাতি হিসেবে পরিচিত হতে চাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button