
রাসেল আহমেদ,সাটুরিয়া প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি ইউনিয়নের তিল্লীর চর এলাকায় রাজিয়া বেগম (২০) নামের গৃহবধু পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার ১ জুলাই সকাল ১০ টার দিকে তিল্লীর চর এলাকায় স্বামী সুমন মিয়ার (২২) বসত বাড়ীতে দক্ষিন দূয়ারী টিনের ঘরের কাঠের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে রাজিয়া বেগমের সাংসারিক জীবনে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত। মঙ্গলবার সকাল বেলা ছেলেকে খাওয়ানোর জন্য পাশের বাড়ী যায়। ছেলে আরিয়ান প্রায় সময়ই খেতে চাইত না তাই হাতে তুলে হেঁটে হেঁটে খাওয়াত রাজিয়া বেগম। ছেলেকে খাইয়ে প্রতিবেশী ননদের কাছে রেখে বাড়ী ফিরে আসে। শাশুড়ি সালমা আক্তার (৫০) কে সকালে রান্না করার কথা বলে নিজের বসত ঘরে যায়। অনেকক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পর ছেলের বৌয়ের খোঁজ না পেয়ে ঘরের কাছে দরজা বন্ধ দেখে শাশুড়ি ডাক দিয়ে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে দেখে ছেলের বৌ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরনার সঙ্গে ঝুলছে। সালমা বেগমের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রাজিয়াকে ওড়না কেটে নামায়। ততক্ষনে রাজিয়ার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসী পুলিশ এবং রাজিয়ার বাবার বাড়ি খবর দেয়।
১৮ বছর আগে রাজিয়ার মা ফরিদা বেগম রাজিয়া কে ২ বছরের রেখে বিষ পানে আত্মহত্যা করে। সেই থেকে খালার কাছে বড় হয় রাজিয়া। সাটুরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে রাজিয়ার বাবার বাড়ীর লোকজন আত্মহত্যাকে হত্যা বলে স্বামী সুমন মিয়া, শ্বাশুড়ি সালমা কে অভিযুক্ত করে। সুমন বাড়ী থেকে পলাতক রয়েছে। শ্বাশুড়িও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ পুলিশের কাজে বাধা দেয় রাজিয়ার বাবার বাড়ীর লোকজন। পরে সদর সার্কেল সালাউদ্দিন আহমেদ, অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দুপুর আড়াইটার দিকে লাশ যখন অ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হয় শিশু আরিয়ানের কান্নায় উপস্থিত সকলের চোখে পানি এসে যায়।
অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমের স্বামী, শাশুড়িকে বাড়িতে পাওয়া যায় নি। ময়নাতদন্তের চুড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




