sliderঅপরাধশিরোনাম

আজ হলি আর্টিজানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে বাংলাদেশ

সাত বছর আগে ঢাকার অভিজাত গুলশান এলাকায় হলি আর্টিজান ক্যাফেতে উগ্র হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে বাংলাদেশ, যাদের বেশিরভাগ জাপানি এবং ইতালীয়।

আজ শনিবার তাদের প্রতি শ্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।

ক্যাফেটি ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে বেশ কিছু লোককে জিম্মি করে রেখেছিল উগ্রবাদীরা। যাদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশী এবং দুই পুলিশ সদস্য সহ ২২ জনকে হত্যা করেছিল। দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ এই উগ্র হামলায় অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালিয়ান, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমেরিকান এবং দু’জন বাংলাদেশী ছিল।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে পাঁচজন সশস্ত্র ব্যক্তি ক্যাফেতে হামলা চালায়। এ সময় ক্যাফেতে ডিনাররত যাদেরকে জিম্মি করা হয়েছিল তাদের বেশিরভাগই ছিল বিদেশী। একপর্যায়ে তারা একে একে কয়েকজন জিম্মিকে হত্যা করতে থাকে।

ইসলামিক স্টেট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে দেশে সংগঠনটির উপস্থিতি অস্বীকার করেছে।

ভয়াবহ হামলার পর বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ উগ্রবাদীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের জবাব দিয়েছে।

২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর একটি বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল হামলায় জড়িত থাকার জন্য ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং একজন খালাস পেয়েছেন।
সূত্র : ইউএনবি

হলি আর্টিজানে হামলার ৭ বছর আজ

হলি আর্টিজানে হামলার সপ্তম বছর আজ। গত ২০১৬ সালের এই দিনে গুলশান-২ এর লেক পাড়ের হলি আর্টিজান বেকারিতে ঘটে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উগ্রবাদি হামলা। ভয়াবহ ওই হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৭ জন বিদেশী নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন।

ওই দিন সারা রাত চেষ্টা করেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হলি আর্টিজানের হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে পারেনি। পরের দিন ২ জুলাই সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো সদস্যদের পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ অবসান হয় ওই নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এ সময় নিহত হয় হামলাকারী পাঁচ উগ্রবাদি।

যে উগ্রবাদিরা হামলায় অংশগ্রহণ করে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, হলি আর্টিজান হামলায় সরাসরি অংশ নেয় উচ্চ শিক্ষিত পাঁচ উগ্রবাদি। তারা উগ্রবাদি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। হামলায় অংশ নেয় মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির ছাত্র নিবরাস ইসলাম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, স্কলাসটিকার সাবেক ছাত্র মীর সামিহ মোবাশ্বের, বগুড়ার বিগিগ্রাম ডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদরাসার সাবেক ছাত্র খায়রুল ইসলাম পায়েল, বগুড়ার সরকারি আযিযুল হক কলেজের ছাত্র শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

সেদিন গুলশানে যা ঘটে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত ৮টা ৪০ মিনিটে গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস ওয়্যারলেসে খবর পান হলি আর্টিজান বেকারিতে গোলাগুলি হচ্ছে। সাথে সাথে তিনি একটি টিম নিয়ে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের আসার খবর পেয়ে রিপন কুমার দাসের টিমের ওপর গুলি ছোড়াসহ গ্রেনেড নিক্ষেপ করে উগ্রবাদিরা। এতে তার সাথে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রিপন কুমার দাস তার ঊর্ধ্বতন অফিসারদের বিষয়টি ফোন করে জানান। পরে ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার মো: আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে ঘটনাস্থলে হাজির হন। এ সময়ের মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে হলি আর্টিজানে উগ্রবাদি হামলার খবর। পরিস্থিতি বেসামাল দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হলি আর্টিজানসহ পুরো গুলশান এলাকা ঘিরে ফেলেন।

ডিএমপি কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে উগ্রবাদিরা রাত ১০টার দিকে হলি আর্টিজানের প্রধান গেটে আবারও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। গ্রেনেড নিক্ষেপে আহত হয়ে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বনানী থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাহউদ্দিন খান ও ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) মো. রবিউল করিম মারা যান।

এর মধ্যে রাত সাড়ে ১১টায় ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন তৎকালীন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। তিনি এসময় সাংবাদিকদের জানান, হলি আর্টিজানের ভেতরে অন্তত ২০ জন বিদেশিসহ কয়েকজন বাংলাদেশিও আটকা পড়েছেন। ভেতরে যারা আছেন, তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য তারা বিপথগামীদের সঙ্গে কথা বলতে চান।

এরপর রাতভর চলতে থাকে জিম্মিদশা। হাজার চেষ্টা করেও উগ্রবাদিদের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে রাত দেড়টার দিকে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী পাঁচ তরুণের ছবি প্রকাশ করে হামলার দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

২০ মিনিটে হত্যাযজ্ঞ শেষ করে নিবরাসরা

হলি আর্টিজান হামলার মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, হামলা শুরুর প্রথম ২০ মিনিটে হলি আর্টিজানে কিলিং মিশন সম্পূর্ণ করে উগ্রবাদিরা। উগ্রবাদিরা দেশি-বিদেশিদের গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার পর ছবি তুলে অ্যাপের মাধ্যমে বাইরে অবস্থানরত নব্য জেএমবির নেতা তামিম চৌধুরী ও মারজানের কাছে পাঠায় তারা।

‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’

রাতভর চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় পর দিন ২ জুলাই সকালে শুরু হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ পরিচালনা করে ১২ ঘণ্টার জিম্মিদশার অবসান ঘটায়। মাত্র ১২ থেকে ১৩ মিনিটের মধ্যেই সব সন্ত্রাসীকে নির্মূল করে ওই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন। ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’র পর উগ্রবাদিদের হাতে নিহত ২০ জনের মরদেহ বের করে নিয়ে আসা হয় হলি আর্টিজান থেকে। এদের মধ্যে ৯ জন ইতালির নাগরিক, ৭ জন জাপানের, একজন ভারতের ও ৩ জন বাংলাদেশি।

উগ্রবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের জন্য ছিল এই হামলা

হলি আর্টিজান উগ্রবাদি হামলার পর এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে। তাদের তদন্ত উঠে আসে উগ্রবাদিরা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হলি আর্টিজানে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। আন্তর্জাতিক কোনো উগ্রবাদি সংগঠনের সহায়তা ছাড়াই দেশীয় উগ্রবাদিরা এই হামলা চালায়। ‘নব্য জেএমবি’ সদস্যরা দেশে উগ্রবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ হামলা চালায়।

হলি আর্টিজান হামলার মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জানায়, দেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করার পরিকল্পনা থেকে হলি আর্টিজানে হামলা করে নব্য জেএমবির সদস্যরা। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাইবান্ধার সাঘাটায় নব্য জেএমবির শুরাকমিটির এক বৈঠকে এই হামলার পরিকল্পনা হয়।

হলি আর্টিজান মামলার রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ

হলি আর্টিজান উগ্রবাদি হামলার রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তথাকথিত জিহাদ কায়েমের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদি সংগঠন আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য নব্য জেএমবির সদস্যরা গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে নারকীয় ও দানবীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হলি আর্টিজান হামলার মধ্য দিয়ে উগ্রবাদিবাদের উন্মত্ততা, নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতার জঘন্য বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

ভয়াবহ এই হামলার বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি

বিগত ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এই উগ্রবাদি হামলার বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি। হলি আর্টিজানের হামলার ঘটনার পর দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। সিটিটিসি হামলার দুই বছরেরও বেশি সময় পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ২০১৮ সালের ৩ জুলাই। পরে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক আসামিকে খালাস দেন বিচারিক আদালত। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ এবং মামুনুর রশিদ রিপন। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

একই বছরের ৩০ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির ডেথরেফারেন্স ও মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে আসে। এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। এরপর আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আর রায়ে খালাস পাওয়া একজনের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এখনো মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে নতুন উগ্রবাদি সংগঠন

হলি আর্টিজানে উগ্রবাদি হামলার পর দেশে ব্যাপক উগ্রবাদি বিরোধী অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার হয় হাজার হাজার উগ্রবাদি। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশে উগ্রবাদিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে নতুন উগ্রবাদি সংগঠন। নতুন উগ্রবাদি সংগঠনটির নাম হলো ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’।

সংগঠনটির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে জানা যায়, দেশের পার্বত্য অঞ্চলে কুকি-চিন নামে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ছত্রছায়ায় নতুন এই উগ্রবাদি সংগঠনটির সদস্যরা সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানসহ আশপাশের এলাকার গহিন পাহাড়ে তারা সংগঠিত হচ্ছিল। পাহাড় থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা সমতলে ভয়াবহ উগ্রবাদি হামলার পরিকল্পনা করছিল। সংগঠনটির ডাকে দেশজুড়ে অর্ধশতাধিক তরুণ ঘর ছেড়েছে পাহাড়ে যান।

ঘর ছাড়ার ঘটনার পর এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। র‍্যাবের অভিযানে পাহাড়ের ক্যাম্প থেকে নতুন উগ্রবাদি সংগঠনের অনেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এছাড়া গত শুক্রবার (২৩ জুন) রাতে মোস্ট ওয়ান্টেড দুর্ধর্ষ উগ্রবাদি শামিন মাহফুজকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি।

সিটিটিসি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত উগ্রবাদি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও মূল ব্যক্তি শামিন মাহফুজকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করে সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন এই উগ্রবাদি সংগঠনের উদ্দেশ্য সশস্ত্র জিহাদ করা। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য যারা কাজ করে তারা মুরতাদ। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল। তবে তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিশ্চিত হতে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

নতুন উগ্রবাদি সংগঠনের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণদাতা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিনের প্রধান নাথান বমের বিষয়ে সিটিটিসি প্রধান বলেন, আমরা নাথান বমের সঙ্গে শামিনের সর্বশেষ যোগাযোগটা এখনো উদঘাটন করতে পারিনি। নতুন উগ্রবাদি সংগঠনের ডাকে হিজরতে যাওয়া অধিকাংশকেই আমরা গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। আশা করছি, শামিন মাহফুজকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হবে।

আদালত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় দুই উগ্রবাদিকে

গত ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে ঢাকার আদালত চত্বর থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই উগ্রবাদিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। হাজিরা শেষে পুলিশ সদস্যরা উগ্রবাদিদের নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় পুলিশের চোখে-মুখে স্প্রে করে উগ্রবাদি সদস্য মইনুল হাসান শামীম ও আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিবকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই দুই উগ্রবাদি দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দুই উগ্রবাদির ছিনতাইয়ের ঘটনার পর দেশব্যাপী আলোড়নের সৃষ্টি হয়ে। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ১০ উগ্রবাদিকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও পলাতক উগ্রবাদিদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

গ্রেপ্তার উগ্রবাদিরা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সিটিটিসিকে জানায়, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে উগ্রবাদি আসামি ছিনতাইয়ের মাস্টারমাইন্ড হলেন নিষিদ্ধ-ঘোষিত উগ্রবাদি সংগঠন আনসার আল ইসলামের প্রধান সমন্বয়ক মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া। তার অনুমতিতে এই ছিনতাই অপারেশন পরিচালনা করেন সংগঠনের সামরিক শাখার প্রধান মশিউর রহমান ওরফে আইমান।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, উগ্রবাদিদের ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল কয়েক মাস আগে। সহযোগীদের সঙ্গে উগ্রবাদিরা যোগাযোগ রাখত মোবাইল ফোনে। কাশিমপুর কারাগার থেকে উগ্রবাদিরা দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল। মোবাইল ফোন নিয়ে একবার কারারক্ষীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে উগ্রবাদিরা। সেটি জব্দ করা হয়। পরে আবারও তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করে।

গ্রেপ্তার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, বিভিন্ন জনকে টাকা দিয়ে উগ্রবাদিরা কারাগারে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। এছাড়া উগ্রবাদিদের সেলে দীর্ঘদিন টেলিভিশনও ছিল। তারা নিয়মিত টেলিভিশন দেখত, সংবাদ দেখত। টাকার বিনিময়ে কারাগারে বসে উগ্রবাদিরা নিয়মিত এসব সুবিধা নিত।
নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button