রাজনীতিশিরোনাম

আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে কয়েক হাজার বিএনপি নেতাকর্মী

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে পুলিশের সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী।
সোমবার হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে এর শুনানি চলছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫ শ’ জনকে আগাম জামিন দিয়েছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন দু’টি বেঞ্চ।
বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষে আদালতে আছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাদের সহায়তা করছেন ফাইয়াজ জিব্রান মইন, কবির হোসেন লিয়ন, আফতাব উদ্দিন প্রমুখ আইনজীবী।
এদিকে, আগামী জামিন নিয়ে আজ সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট আদালতের সামনে এসে হাজির হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ফলে আদালত এলাকায় উপচে পড়া ভিড়ের সৃষ্টি হয়।
ময়মনসিংহ, ফুলবাড়িয়া, গফরগাঁও, কেন্দুয়া, পাগলা, ফুলপুর, ফুলবাড়িয়া, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানা থেকে নেতাকর্মীরা এসেছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এই মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ আরো চারজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ সবাইকে সমানভাবে ভাগ করে পরিশোধ করতে বলা হয়।
এ রায়কে ঘিরে সারাদেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষের ঘটনায় হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।
প্রায় ১০ বছর আগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বে থাকার সময় এই মামলাটি করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
সেখানে অভিযোগ করা হয়, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে পাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দেয়া হলেও, তা এতিম বা ট্রাস্টের কাজে ব্যয় করা হয়নি। বরং সেই টাকা নিজেদের হিসাবে জমা রাখার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
কিন্তু আসামিপক্ষ থেকে দেখানো হয়েছে বর্তমানে ওই অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে এবং তা সুদে-আসলে বেড়ে ছয় কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের তখনকার উপ সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ (বর্তমানে উপ-পরিচালক) এ মামলার এজাহারে খালেদা জিয়াসহ মোট সাতজনকে আসামি করেন।
বাকি ছয়জন হলেন- খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক (ইকোনো কামাল), সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়ীদ আহমেদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button