sliderস্থানিয়

অভিযোগের পাহাড় থাকা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে সহকারী শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম

ত্রিপুরারী দেবনাথ তিপু, হবিগঞ্জ: রফিকুল ইসলাম, সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, মাধবপুর, হবিগঞ্জ। গত ৭ বছর আগে মাধবপুর উপজেলায় সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।যোগদান করার পর থেকে শিক্ষা অফিসে গ্রুপিং শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং করা,শিক্ষকদের উপর প্রভাব বিস্তার, ক্ষমতার অপব্যবহার আর নারী কেলেঙ্কারির মত অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র আচার্যের উপর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এ সন্ত্রাসী হামলার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলা শিক্ষা অফিসার ৪ মে ২০২৩ তারিখে জেপ্রাশিঅ/হবি/ ৯১৭ নং স্মারকে সহকারি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হবিগঞ্জ গকুল চন্দ্র দেবনাথকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটি ৭ মে ২০২৩ তারিখ থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। বাদী-বিবাদী,সাক্ষীর বক্তব্য, সরজমিনে তদন্ত এবং অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে ২৫ মে ২০২৩ তারিখে পর্যবেক্ষণ এবং মন্তব্যসহ তদন্ত প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট জমা দেয়।

তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিক্ষা কর্মকর্তা দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র আচার্যের উপর এ সন্ত্রাসী হামলা পূর্ব পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে। এই সন্ত্রাসী হামলার পিছনে সরাসরি জড়িত ছিল উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এবং মীর নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাহমুদুল হাসান রনি।

তদন্ত প্রতিবেদনের সর্বশেষ পাতায় ৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে। ৪ নং মন্তব্যে বলা হয়েছে এ সন্ত্রাসী হামলা করা হয়েছিল শিক্ষা কর্মকর্তা দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র আচার্যকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য। এ হামলার সাথে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান রনি জড়িত।

জেলা শিক্ষা অফিসার প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মহা পরিচালক (গ্রেড-১), দৃৃষ্টি আকর্ষণ পরিচালক প্রশাসন ঢাকা বরাবর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশসহ ২৮ মে ২০২৩ তারিখে জেপ্রাশিঅ/হবি/ ১০৯৯ নং স্মারকে প্রেরণ করা হয়।

জানা যায়, বিভিন্নভাবে তদবির ও অর্থ ব্যয় করে তদন্তে অভিযুক্ত সহকারী অফিসার রফিকুল ইসলাম এবং সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হসান রনি এ প্রতিবেদন অধিদপ্তরে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে।যে কারনে এখনো এ প্রতিবেদনটি আলোর মুখ দেখেনি।

গত ২৮ অক্টোবর২০২৪ তারিখে সুবিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহিলাদেরকে নিয়ে এক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে এলোমেলো নাচানাচি করে এই রফিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে একাধিক পত্রিকায় নিউজ হয়। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গত ২৩ এপ্রিল তারিখে সাবক্লাস্টার ট্রেনিং ফাঁকি দিয়ে শিক্ষকদের নিয়ে স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্র রাবার ড্যামে চলে যায় রফিকুল ইসলাম।এটি একটি অপরাধ।কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ ২০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সাব ক্লাস্টার ট্রেনিং ফাঁকি দিয়ে শিক্ষকদের নিয়ে চা বাগানে চলে যায় এই রফিকুল ইসলাম।সেখানে গিয়ে এক সহকারী শিক্ষিকার সাথে বিভিন্ন গানে জড়িত হয় তিনি। এ গান তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রচার করলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক সমালোচনা। একাধিক পত্রিকায় হেডলাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ নিউজ হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তার বিরুদ্ধে এতসব অভিযোগ থাকার পরেও সে কিভাবে শ্রেষ্ঠ সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হয় তা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে শিক্ষা সপ্তাহের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার মো: শাহ আলম বলেন “আমি নতুন এসেছি। তার সম্পর্কে আমার এত ধারণা নাই।আপনি ডিডি স্যারের সাথে কথা বলেন।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক সিলেট,মো: নুরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন বিভাগ) শাহীনুর শাহীন খান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “বিষয়টি আমরা দেখব।”

অভিযুক্ত সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও এবিষয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button