অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

অবশেষে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শুরু হচ্ছে

অবশেষে সনাতন পদ্ধতিতেই বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী বুধবার বা বৃহস্পতিবার থেকে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তারা। ভবনটি ভাঙার জন্য সময় দেওয়া হবে ছয় মাস।
রাজউক কর্মকর্তারা জানান, ১৬ তলা বিজিএমইএ ভবন ভাঙার বিষয়ে আজ সোমবার সাত সদস্যের কার্যকরী কমিটির বৈঠক হবে। আগামী বুধবার নাকি বৃহস্পতিবার বিজিএমই ভবন ভাঙার কাজের সূচনা হবে, তা আজকের সভায় চূড়ান্ত হবে।
ভাঙার সময় পরিবেশগত দিক ও জানমালের নিরাপত্তার দিকটি বিশেষভাবে দেখা হবে। ভাঙার কাজে ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞও থাকবেন বলে জানা গেছে।
রাজউক সূত্রমতে, প্রথমে আধুনিক বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরকের মাধ্যমে (কন্ট্রোলড ডিমোলিশন) ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ভবনটিতে কয়েক কোটি টাকার রড আছে। এ ছাড়া আছে রঙিন কাচ ও মূল্যবান বাথরুম ফিটিংস। নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরকের মাধ্যমে ভাঙা হলে ভবনের রডসহ মূল্যবান এসব সামগ্রী কাজে লাগানো যাবে না। তাই সনাতন পদ্ধতিতে ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজয় সরণির র‌্যাংগ্‌স ভবনের মতো দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি যাতে না ঘটে, সে জন্য শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএর ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সেটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে, যা ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। সর্বশেষ গত বছর আবার এক বছর সময় বাড়ানো হয়। সে সময় ভবিষ্যতে আর সময় চাইবে না বলে মুচলেকা দেয় বিজিএমইএ। সেই সময় শেষ হয় গত ১২ এপ্রিল। এরপর ১৬ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় রাজউক।
পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button