বিবিধশিরোনাম

অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশু ফিরে পেলো পরিপূর্ণ সুস্থ জীবন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সফল অস্ত্রোপচার শেষে সুস্থ হয়ে উঠা সেই অপূর্ণাঙ্গ জোড়া (অপূর্ণাঙ্গ যমজ) শিশু মোহাম্মদ আলীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে বিএসএমএমইউ’র ডা. মিল্টন হলে শিশু সার্জারি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান শিশু মোহাম্মদ আলীকে তার মায়ের কোলে তুলে দেন।
এর মাধ্যমে শিশু মোহাম্মদ আলী আজ বুধবার মা-বাবার সাথে সুস্থ জীবন নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে গেলো।
বিএসএমএম সূত্র জানায়, প্রায় সাড়ে চারমাস আগে মাত্র তিনদিন বয়সে শিশুটির দরিদ্র বাবা-মা শিশু মোহাম্মদ আলীকে বিএসএমএমইউ’তে নিয়ে আসেন। বিএসএমএমইউ’র শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিন খানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিশুটির সম্পর্কে জানতে পেরে মোহাম্মদ আলীর প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের সুব্যবস্থা করে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
ভিসি শিশুটিকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া, ওষুধপত্র ও অস্ত্রোপচারের সুব্যবস্থা করেন। গত ২০ জুন পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের মেডিক্যাল টিম সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ শিশু থেকে অপূর্ণাঙ্গ শিশুটিকে আলাদা করেন। এখন শিশু মোহাম্মদ আলী সম্পূর্ণ সুস্থ।
শিশু মোহাম্মদ আলীকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আজ কাছে পেয়ে মা হীরামনি বলেন, ‘আমি যে কি খুশি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না, আমি গর্বিত ও আনন্দিত। অস্ত্রোপচারের আগে পর্যন্ত ভাবিনি ছেলেটি সুস্থ হয়ে উঠবে।’
তিনি তার ছেলের সুস্থতার জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন, বিশেষ করে চিকিৎসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসাথে মা হীরামনি শিশু মোহাম্মদ আলীর জন্য সকবার দোয়া চান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তজার্তিক মানের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশু মোহাম্মদ আলীর সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নতুন মাইলফলক রচনা করেছেন। শিশু মোহাম্মদ আলীর অভিভাবক তার পিতামাতা হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিশুটিকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিশুটির পারিবারিক সূত্র জানায়, আরেকটি শিশুর শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ নিয়ে জন্মানো মোহাম্মদ আলী নামের পূর্ণাঙ্গ শিশুটি গত ৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করে। জন্মের তিন দিন পর থেকে অর্থাৎ ১০ মার্চ থেকে শিশুটি বিএসএমএমইউতেই চিকিৎসাধীন ছিল। অপূর্ণাঙ্গ শিশুটির একটি কিডনী, মূত্রাশয় ও লিঙ্গ ছিলো যা দিয়ে সে নিয়মিত প্রসাব করতো। অপূর্ণাঙ্গ শিশুটি সংযুক্ত ছিলো পূর্ণাঙ্গ শিশুটির পেটের ডান দিকে এবং অপূর্ণাঙ্গ শিশুটির পিঠের হাড় পূর্ণাঙ্গ শিশুটির বুকের হাড়ের সাথে মিশানো ছিল। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ শিশুটির নাভিও অসম্পূর্ণ যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় এক্সমফালোস এর ভিতরের যকৃৎ ও খাদ্যনালী একটি পর্দা দিয়ে ডাকা অবস্থায় ছিল, বর্তমানে এটার অবস্থা ভালো।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ’র প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এএসএম জাকারিয়া (স্বপন), কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ আলী আসগর মোড়ল, শিশু (প্যাডিয়াট্রিক) সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button