খেলা

অনেক রেকর্ডের এক ইনিংস

ওয়ানডে ক্রিকেটে উদ্বোধনী জুটিতে শুক্রবার নতুন রেকর্ড গড়লেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার ফখর জামান ও ইমাম উল হক। শুধু তাই নয় এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে রেকর্ড বইয়ের অনেকগুলো পাতা ওলট পালট হয়েছে শুক্রবার। ব্যক্তিগত ও দলীয় বেশ কয়েকটি অর্জন এসেছে বুলাওয়ের এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে। অথচ ক্রিকেট আঙ্গিনায় মাত্রই পা পড়েছে দুজনের। ফখর জামান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছেন গত বছরের জুন মাসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দিয়ে। সে আসরের ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে দারুণ এক সেঞ্চুরি ছাড়াও প্রতিটি ম্যাচেই খেলেছেন নজর কাড়া ইনিংস। সব মিলে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন ১৭টি, এখনো পা পড়েনি টেস্ট আঙিনায়। আর ইমাম উল হক তো আরো নতুন! গত বছর অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজে অভিষেকের পর খেলেছেন ৮টি ওয়ানডে ম্যাচ, টেস্ট তিনটি।
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে আগে ব্যাট করে রানের পাহাড় গড়েছে পাকিস্তান। নির্ধারিত পঞ্চাশ ওভারে তারা এক উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৩৯৯ রান। যা পাকিস্তানের ওয়ানডে ইতিহাসে দলীয় সর্বোচ্চ। ওয়ানডেতে দলীয় এর আগে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিলো ৩৮৫ রান। ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কার ডাব্বুলায় এশিয়া কাপের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির ৬০ বলে ১২৪ রানের অতিমানবীয় ইনিংসের মাধ্যমে সেই সংগ্রহ গড়েছিলো পাকিস্তান। ৮ বছর পর সেই রান টপকে গেল আজ তারা।
উদ্বোধনী জুটিতে ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংগ্রহটি এসেছে এদিন। এক যুগ আগে ২০০৬ সালে। সনথ জয়সুরিয়া ও উপুল থারাঙ্গা উদ্বোধনী জুটিতে ২৮৬ রান করেছিলেন ইংল্যান্ডেরই মাটিতে, তাদের বিরুদ্ধে। আজ থেকে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ সংগ্রহের মালিক ফখর জামান ও ইমামুল হক(৩০৪)। ইনিংসের ৪০তম ওভারে ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে মিড উইকেট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে রেকর্ড বইয়ের পাতায় নিজেদের নামটি লেখেন ফখর জামান। ফখর জামান ও ইমাম উল হকের সামনে সুযোগ ছিলো নিজেদের পার্টনারশিপটাকে আরো বড় করার, হাতে ছিলো আরো ৮টি ওভার; কিন্তু ৪২তম ওভারের শেষ বলটিতে ইমাম উল হক আউট হলে শেষ হয় এই ম্যারাথন জুটি। পাকিস্তানের পক্ষে আগে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছিলো মোহাম্মাদ হাফিজ ও ইমরান ফরহাতের(২২৮)।
ওয়ানডে ইতিহাসের যে কোন উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় শুক্রবারের ইনিংসটি আছে চার নম্বরে। সেখানে সবার উপরে ক্যারিবীয় হার্ড হিটার ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলস। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে এই জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধেই দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৩৭২ রান করেছিলেন গেইল-স্যামুয়েলস। গেইল সেদিন করেছিলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি। পাকিস্তানের পক্ষে অবশ্য যে কোন উইকেট জুটিতেই আজকের ইনিংসটি সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিলো আমির সোহেল ও ইনজামাম উল হকের(২৬২) দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে। আজ ফখর জামানকে সাথে নিয়ে চাচার সেই রেকর্ড ভেঙে নিজের দখলে নিলেন ইনজামামের ভাতিজা ইমাম উল হক।
ব্যক্তিগতভাবে এদিন গৌরবময় এক রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন ফখর জামান। পাকিস্তানের পক্ষে ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করলেন তিনি। আর ওয়ানডে ইতিহাসে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হলেন ফখর। আগে ডাবল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার, রোহিত শর্মা(৩টি), ক্রিস গেইল, মার্টিন গাপটিল, বীরেন্দ্র শেহওয়াগ।
পাকিস্তানের পক্ষে আগে ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ ছিলো সাইদ আনোয়ারের দখলে। ১৯৯৭ সালে চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে সাইদ আনোয়ারের ১৯৪ রানের ইনিংসটি দীর্ঘদিন ওয়ানডে ইতিহাসেরও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান হিসেবে টিকে ছিলো। শুক্রবার ৪৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ত্রিপানোকে ডিপ মিডউইকেট নিয়ে চার মেরে ফখর ছাড়িয়ে যান পাকিস্তানি তারকা সাইদ আনোয়ারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৯৪ রান।
নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button