
মাসুদ পারভেজ, মির্জাপুর প্রতিনিধি :কাগজপত্রের কোন তোয়াক্কা না করেই চলছে তামাকজাত দ্রব্যের তৈরির কাজ।এতে সরকার হারাচ্ছে তার রাজস্ব, ক্ষতি হচ্ছে দেশের।আবার অন্যদিকে নোংরা পরিবেশেই তৈরি হচ্ছে এসব দ্রব্য।কারখানার সামনেও নেই কোন সাইনবোর্ড, সরেজমিনে গেলে দেখা যায় এমন চিত্র। স্থানীয়দের দাবি এটি একটি অবৈধ কারখানা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই তারা দীর্ঘদিন ধরে চালাচ্ছে এই কারখানা।
এমন দৃশ্য দেখা গেছে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্প এলাকায়। যেহেতু কারখানার সাইনবোর্ড নেই,সেক্ষেত্রে অফিস স্টাফরা জানান,আমাদের কারখানার নাম মুক্তার কাটিং হাউজ। কারখানার ভেতরে গিয়ে দেখা যায়,নোংরা পরিবেশে কাজ করছে মাত্র ৮-১০ জন শ্রমিক ও ৪-৫ জন অফিস স্টাফ। অফিস স্টাফরা জানান, আমাদের শ্রমিক আছে ১৮-২০ জন।
ভেতরে আরোও দেখা যায়,তামাকজাত পণ্য বস্তার মধ্যে ভরে রেখে দিয়েছে। শ্রমিকরা সেই তামাকজাত পণ্যগুলো মেশিনে ভাঙাচ্ছে,করে ফেলছে গুঁড়ি গুঁড়ি।
কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বললে তারা বলেন,এগুলো আমরা ভাঙিয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি করি। পরে এগুলো দিয়ে কি তৈরি হয় জানিনা। তবে ভেতরের পরিবেশ ভালো না,এখানে কাজ করা অনেক কষ্টকর।
স্থানীয়রা জানান,এটার ভেতরে কি কি তৈরি হয় সব জানিনা,তবে যতটুকু জানি ভেতরে অবৈধ গুল তৈরি হয়।মাঝে মাঝে ভেতরে থেকে অনেক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়,এখান দিয়ে যাওয়া যায় না।
কারখানাটির সুপারভাইজার আবুল হোসেন ও মো. রিয়াজ বলেন,আমরা এখানে চাকরি করি। মালিকপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিবে আমাদের সেই সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হয়। তবে এর আগে অনেক সাংবাদিক আসছে,কেউ কখনো কাগজপত্র চাইনি,এইজন্য অফিসে রাখিনা।
কারখানার ম্যানেজার আবদুল গফুর বলেন,কারখানার সকল কাগজপত্র আমাদের ঢাকা হেড অফিসে। মালিক সেখানেই রাখেন। যখন প্রয়োজন হয়,তখন কারখানায় নিয়ে আসেন।মালিক কোন কাগজপত্র এখানে রাখেননা। আপনাদের প্রয়োজন হলে আনতে বলব। আসলে কেউ তো কোনদিন চাইনি,তাই এখানে রাখা হয় না। সামনে একটি সাইনবোর্ড ছিল,ঝড়ে ভেঙে গেছে। ভেতরের নোংরা পরিবেশ বলতে, এইসমস্ত কারখানায় পরিবেশ এমনি থাকে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম বলেন,তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



