sliderস্থানীয়

লামায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জবর দখল অব্যাহত

জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি : লামায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাহাড় কেটে প্রতি পক্ষের জমি দখলে নিয়োজিত রয়েছে হারুন গং। এর ফলে খলিলুর রহমান নামের এক প্রজার অপূরণীয় ক্ষতি সাধন হচ্ছে। হারুন গং খলিলের প্রায় ৩০ শতাংশ জমি দখল নিয়ে শুধু ক্ষান্ত হননি, বছর বছর ধরে পাহাড় কেটে জমির পরিধি বৃদ্ধি করছে। এছাড়া জমি ঘেঁষে ছোট বমু খালে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে গতিরোধ করে অপর প্রান্তে ভাঙ্গণ সৃষ্টি করছে। তার বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন লঙ্গনের অভিযোগ উঠেছে। হারুনদ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ প্রজা খলিলুর রহমান আদালতে মামলা করে সুফল পাচ্ছেন না বলে জানান সে। এ ব্যপারে সিনিয়র সহকারী জজ বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্বাক্ষরিত আদালতের এক আদেশে প্রকাশ, “লামা উপজেলার ছোট বমু মৌজার ৩০১নং হোল্ডিং এর ৫ একর ২য় ও ৩য় শ্রেণির জমি ক্রয় সূত্রে মালিক খলিলুর রহমান। সে বন্দোবস্তীসূত্রে মালিক মোছাম্মদ লৎফুন নাহার এর নিকট হতে ২৬/০২/৯৭ইং এর রেজি: ১২৩/৯৭নং বায়নানামা দলিল মূলে খরিদ করে দখলদার মালিক।”
আদালতের নিষেধাজ্ঞা রায়, আলোচনা সিদ্ধান্তে উল্লখ রয়েছে, ”বাদীপক্ষে দাখিলকৃত ৩০১নং হোল্ডিং এর জমাবন্দী পর্যালোচনায় উক্ত হোল্ডিং এর জমিতে প্রথমে মোছাম্মৎ লুৎফুনাহার ও পরবর্তীতে খলিলুর রহমান মালিক থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ ৩০১নং হোল্ডিং এর জমি বাবদ বাদীপক্ষের Prima facie Arguable case রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।” অপরদিকে বিবাদীপক্ষ লিখিত আপত্তিতে আদালতে যে সব দাবী করেছেন তার মধ্যে “৫ একর খাস জমি ০২/০৮/২০০১ইং এর হেডম্যান রিপোর্ট মতে ২নং প্রতিপক্ষ মালিক দখলকার থাকায় ৩০/০৪/১২ইং জেলা প্রশাসকের নিকট ৩৫৩/২০১২নং আবেদন করেন। প্রতিপক্ষ দাবী করেন দরখাস্তকারীর ৩০১নং হোল্ডিং এর জমি ১নং বিবাদীর জায়গা হতে ১ কি:মি: দূরে। প্রতিপক্ষের লিখিত আপত্তি অনুযায়ী তাদের ৫০নং হোল্ডিং এর ৪.৯০ একর জমি খরিদসূত্রে মালিকানা আছে এবং অপর ৫ একর জমিতে মালিকানার কোন কাগজপত্র নাই এবং তাদের নামে বন্দোবস্ত নাই।”
অপর দিকে “বাদীপক্ষ একটি সুনির্দিষ্ট চৌহদ্দী উল্লেখ করে ৩০১নং হোল্ডিং এর জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করেছেন এবং দরখাস্তে বর্ণিত জমি চৌহদ্দীর সাথে জমাবন্দীর মিল রয়েছে। দরখাস্তকারী বাদীপক্ষের নিষেধাজ্ঞা প্রার্থীত ভূমিতে মালিকানার জমাবন্দী রয়েছে। প্রতিপক্ষ রফিক ও দাবী ৩০১নং বিবাদীদের জায়গা হতে ১ কি:মি: দূরে তথাপি তা সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া নির্ধারণযোগ্য নয়। যেহেতু বাদীপক্ষের দরখাস্তে বর্ণিত ভূমি বাবদ জমাবন্দী, বায়নানামা রয়েছে সেহেতু বাদীপক্ষে Prima facie ও Arguable case রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। যেহেতু নালিশী ভূমি বাবদ বাদীপক্ষের Prima facie ও Arguable case রয়েছে। সেহেতু নালিশী ভূমি হতে বাদীপক্ষ বেদখল হয়ে থাকলে তা তার জন্য অসুবিধাজনক মর্মে প্রতীয়মান হয় এবং পক্ষগণ একাধিক মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে যাবে মর্মে প্রতীয়মান হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই বাদীর অপূরণীয় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। সার্বিক বিবেচনায় ১-৩নং বিবেচ্য বিষয়সমূহ বাদীপক্ষের অনুকূলে নিষ্পত্তি করত: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনা মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হল। এমতাবস্থায় অত্র অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত বিবাদীগণের বিরুদ্ধে দোতরফাসূত্রে মঞ্জুর করা হলো। দরখাস্তের নালিশী তপশিলে বর্ণিত ভূমিতে বেআইনীভাবে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করে বাদীকে বেদখল করতে না পারে এবং গাছ পালা কাটতে না পারে তৎবিষয়ে বিবাদীগণকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অত্র অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দ্বারা বারিত করা হলো।” বিজ্ঞ সিনিয়র জজ আদালতের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে, ক্ষতিগ্রস্থ প্রজা খলিলুর রহমান প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না। বিষয়টি উপজেলা ভূমি সংশ্লিষ্টরা নজরে আনা প্রয়োজন।

Related Articles

Back to top button