মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল,রাজশাহী: সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ আহলেহাদিছ আন্দোলন ও বাংলাদেশ আহলেহাদিছ যুবসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সোনামনি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর রাজশাহী জেলা পশ্চিম অঞ্চলের চূড়ান্ত পর্ব।
রাজশাহী জেলার তিনটি উপজেলা—তানোর, গোদাগাড়ী এবং মোহনপুর—এর কৃতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় মোহনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধুরইল ডিএস কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে মাসব্যাপী বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শেষ সপ্তাহে এই ফাইনাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর জেলা পর্যায়ের এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে তিনটি উপজেলার মোট ৭২ জন শিশু শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিশেষ ব্যাপার হলো, বিগত উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল, কেবল তারাই জেলা পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রতিযোগিতায় মোট চারটি গ্রুপে (ক,খ,গ ও ঘ) শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭ থেকে ১১ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়ে শিশুরা ‘ক’ গ্রুপে এবং ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা ‘খ’ গ্রুপে সাধারণ শাখায় পার্টিসিপেট করে। প্রতিযোগিতায় ছেলেদের জন্য তিনটি এবং মেয়েদের জন্য তিনটি আলাদা গ্রুপ নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে ‘ঘ’ গ্রুপে শুধুমাত্র ছেলেরা ‘জাগরণী’ বিষয়ে অংশ নিয়ে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ৭২ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিচারকদের রায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।
তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিকটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী এক সিদ্ধান্ত—প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কোনো শিশুই খালি হাতে ফেরেনি। বিজয়ী ছাড়াও অংশ নেওয়া সকল ছাত্র-ছাত্রীকে উৎসাহমূলক পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া, আয়োজক কমিটির বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিযোগীদের পাশাপাশি উপস্থিত সকল অভিভাবক এবং শিক্ষকমণ্ডলীকেও পুরস্কৃত করা হয়, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও বেশি আবেগঘন ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
বাংলাদেশ আহলেহাদিছ আন্দোলন ও বাংলাদেশ আহলেহাদিছ যুব সংঘের সুশৃঙ্খল পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সোনামণি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় অনন্য ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন।