sliderস্থানিয়

মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে অসুস্থ ৩৪ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের প্যাকেটজাত দুধ খাওয়ার পর পেটে ব্যথা, বমিসহ বিভিন্ন উপসর্গে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

সোমবার দুপুরে উপজেলার মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম এ ঘটনা ঘটে। ওই বিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। পরে মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন এবং তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষার্থীও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নিশাত রায় জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের বমি এবং পেটে ব্যথার উপসর্গ রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, মিড ডে মিলের দুধ খাওয়ার পরপরই অনেকের পেটে ব্যথা শুরু হয়। কয়েকজন বিদ্যালয়েই বমি করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্যাকেটজাত দুধের স্বাদ তিতা ছিল এবং দুধ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, দুধ খাওয়ার পর সবার পেটে ব্যথা শুরু হয়। অনেকেই স্কুলে বমি করেছে। দুধটি তিতা লাগলেও শিক্ষকদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি করে সে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীম হাসান জানায়, দুধ খাওয়ার পর থেকেই তার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় এবং বমি বমি ভাব হচ্ছে।

এদিকে মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিকা দেবনাথের বাবা মানিক দেবনাথ বলেন, মেয়ের পেটে ব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ব্যথা না কমায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার অভিযোগ, দুধ খাওয়ার পর শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, খাবার ভালো আছে কি না, তা যাচাই না করেই শিশুদের খেতে দেওয়া হয়েছে। দুধে সমস্যা থাকলে তা কীভাবে শিক্ষার্থীদের খেতে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি জানান, তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং দিনাজপুরে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন। তার অনুপস্থিতিতে সহকারী শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম দায়িত্বে ছিলেন। প্যাকেটের ভেতরে থাকায় দুধের সমস্যা আগে থেকে বোঝা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস, বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। কোন খাবারে সমস্যা হয়েছিল এবং প্রকৃতপক্ষে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস জানান, মিড ডে মিলের অবশিষ্ট খাবার জব্দ করতে বলা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে রংপুর ডেইরি ফুড এন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের ‘আরডি ইউএইচটি মিল্ক’ নামে প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহ করা হয়। সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্বে থাকা আবু রিয়াল বলেন, আগের দিন বিদ্যালয়গুলোতে দুধ সরবরাহ করা হয়েছিল। অন্যান্য বিদ্যালয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এই তিনটি বিদ্যালয়ে কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলে জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button