sliderস্থানীয়

বসন্ত উৎসবে মেতেছিল মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজ

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ : চারিদিকে বসন্তের ছোঁয়ায় বসেছিল রঙের মেলা। উৎসবে মেতেছিল ঐতিহ্যবাহী মানিকগঞ্জ সরকারী দেবেন্দ্র কলেজের শিক্ষক -শিক্ষার্থী। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী কলেজ ক্যাম্পাসে নানা আয়োজনে পালন করা হয় এ উৎসব।

শুরুতে শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিববেশনার মধ্যে দিয়ে বসন্ত উৎসবের সূচনা করা হয়। এরপর বর্ণিল শোভাযাত্রার পর বাহারী আয়োজনে প্রিয় ক্যাম্পাস হয়ে উঠে বসন্তময়। কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসব মূখর উপস্থিতিতে ব্যাপক আনন্দে প্রাণ ফিরেছে এ আয়োজন।

মাঠ জুড়ে নানা রঙের ফুল আর শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধ দেশীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় বসন্ত উৎসব পরিণত হয় প্রাণের উৎসবে। মেয়েরা খোঁপায় গাঁদা-পলাশসহ নানা রকম ফুলের মালা গুঁজে বাসন্তী রঙের শাড়ি আর ছেলেরা পাঞ্জাবি-পায়জামা ও ফতুয়ায় শাশ্বত সাজে ভাসছে উৎসবের হাওয়ায়। ঋতুরাজ বসন্ত উৎসবে এভাবে প্রাণের উচ্ছ্বাসে দেখা যায় বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। কলেজ ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয় এরপর মধ্যাহ্ন ভোজের পর ফটোসেশন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দেবেন্দ্র কলেজের হিসাববিজ্ঞান ও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর বদর উদ্দিন আহাম্মদ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক গিরীন্দ্র কুমার রায়, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর- উজ – জামান, প্রভাষক সাজ্জাদ হোসেনসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।

এ উৎসব আয়োজন এবং বিভিন্ন পারফর্মে মাতিয়ে রাখা অন্যতম ভূমিকায় ছিলেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মো: মামুন হোসেন, ২য় বর্ষের মো: রিয়াজ, ২য় বর্ষের সাদিয়া আফরিন, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪ র্থ বর্ষের ছাত্র মো: নয়ন, ৩য় বর্ষের ছাত্রী সমরিতাসহ আরো অনেকে।

আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য প্রভাষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমাদের দেশের যে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি রয়েছে বিশ্বে আর কোন দেশে নেই। বাঙ্গালী সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এই বসন্ত উৎসব।

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া আফরিন বলেন, আনন্দ আর উৎসাহময় দিনটি আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ উৎসবকে ভর করে বাঙালিয়ানা এগিয়ে যাবে বহুদূর।

প্রফেসর বদর উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, বসন্ত উৎসব হচ্ছে বাঙ্গালী সংস্কৃতির একটি অংশ। এ উৎসব গুলো আামরা যথই লালন পালন, চর্চা ও মননে ধারণ করতে পারবো ততই আমরা জাতি হিসেবে সমৃদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।

উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে কলেজের কলা অনুষদে বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামি শিক্ষা, দর্শন ও ইতিহাস; বাণিজ্য অনুষদে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং ও ফিন্যান্স এবং বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, গণিত, উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে স্নাতক কোর্সে পাঠদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৪টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কোর্স চালু আছে। উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে এখন মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ হাজারের ওপরে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button