sliderরাজনীতিশিরোনাম

গোপন প্রতিবেদন দিয়ে চাকরি কেড়ে নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করুন-এবি পার্টি

পতাকা ডেস্ক: সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদে মেধার ভিত্তিতে লিখিত ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও এনএসআই, এসবি ও ডিএসবি’র ভেরিফিকেশনের নামে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

আজ এক যৌথ বিবৃতিতে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা প্রত্যেকেই নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে ভাইভায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এরপর ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ, আইনগত ভিত্তি ও প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ভেরিফিকেশন কোনোভাবেই বৈষম্য, হয়রানি কিংবা রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বাছাইয়ের হাতিয়ার হতে পারে না।

তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নাগরিকের রাজনৈতিক মত, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে কাউকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ না থাকলে শুধু অনুমান, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতপার্থক্যের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “গোপন প্রতিবেদন” বা অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একজন নাগরিকের চাকরি ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া চলবে না। কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হলে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তি, প্রমাণ ও আইনগত কারণ যাচাইয়ের সুযোগ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে দিতে হবে।

তারা আরও বলেন, সম্প্রতি সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। আর্থিক লেনদেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের অভিযোগ থেকে নিয়োগব্যবস্থাকে মুক্ত করে সরকারকে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, একদিকে মেধার ভিত্তিতে ভাইভায় উত্তীর্ণ ও চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়া এবং অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে নম্বর বা মানদণ্ড পরিবর্তনের উদ্যোগ,দুটিই জনমনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত জরুরি।

তারা অবিলম্বে বাদ পড়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, অভিযোগের ভিত্তি ও প্রমাণ প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনঃতদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত এবং আইনগতভাবে অযোগ্য নন,এমন বাদ পড়া প্রার্থীদের দ্রুত পুনর্বহাল করে নিয়োগ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়, এটি নাগরিকের মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায্য অধিকারের বিষয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্য ও বাছাই চলতে থাকে, তাহলে তা বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

এবি পার্টি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, আইনানুগতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং ভেরিফিকেশনের নামে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button