বিবস্ত্র নির্যাতন : মুল হোতা দেলোয়ার কারাগারে

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার হোসেনের ধর্ষণ মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হলে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত ।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক মাশফিকুল হক এ আদেশ দেন। পরে তাকে জেলা কালাগারে নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে আরও দুটি মামলায় দুইদিনের রিমান্ড সহ মোট তিন মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড শেষে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত।এ মামলায় ৮ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিলেও মুল হোতা দেলোয়ার জবানবন্দী দেয়নি।
গত ১৮ অক্টোবর দেলোয়ারকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনবেষ্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে আদালত ধর্ষণের মামলায় পাঁচদিন এবং অপর দুটি মামলায় দুইদিনসহ মোট ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট গুলজার আহমেদ জুয়েল সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষণ সহ তিন মামলায় দেলোয়ার কে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে এবং এর আগে দুটি মামলায় ২দিনের রিমান্ড সহ মোট সাতদিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে বিজ্ঞ আদালত। এ নিয়ে বেগমগঞ্জের একলাশপুরের আলোচিত মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।এতে ৮ জন স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
গত ৫ অক্টোবর নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ তাকে আটক করে র্যাব। পরদিন দেলোয়ারের মাছের ঘের থেকে হাতবোমা উদ্ধার করে র্যাব। এরপর তার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করে র্যাব।
প্রসঙ্গত,উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার মেয়ের সাথে স্বামীর মনমালিন্য ছিলো দীর্ঘদিন।স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় তিনি বাবার বাড়ীতে চলে আসেন। তিনি ১ মেয়ে ও ১ ছেলের জননী।এক মেয়েকে বিয়ে দেন অপর ছেলে একলাশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র।একাকিত্বের এ সুযোগে স্থানীয় বাদল ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে এলাকার, রহিম, কালাম ও তাদের সহযোগীরা ওই মহিলাকে কু প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই গৃহবধুর স্বামী শশুর বাড়িতে আসে। তারা ঘরে অবস্থান করা কালে স্বামীসহ গৃহবধুকে আটক করে অভিযুক্তরা ব্যাপক নির্যাতন চালায়। তারা স্বামীকে বেঁধে রেখে অবৈধ সম্পর্কের কথা বলে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে। এ সময় তার বিবস্ত্র নির্যাতনের নগ্ন ভিডিও ধারন করে নির্যাতনকারীরা।তার পর থেকে পুরো পরিবার কে অবরুদ্ধ করে তারা।এক পর্যায়ে নির্যাতিতাকে বাড়ি ঘর ছাড়তে বাধ্য করে। ঘটনার ৩২ দিন পর ৪ অক্টোবর রোববার ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবস্ত্র নির্যাতনের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় ৩টি পৃথক মামলা দায়ের করে।




