আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

সুদানে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, অবসানের পথে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ

দেড় যুগের গৃহযুদ্ধ অবসান হতে চলেছে সুদানে। সোমবার দেশটির অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহী জোটের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
ডয়চে ভেলে অনলাইন জানায়, দক্ষিণ সুদানের রাজধানী শহরে দেশটির অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে রেভোলিউশনারি ফ্রন্ট বা এসআরএফ-এর চুক্তি সই হয়েছে এ দিন।
টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হয় চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানটি। দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তির সইয়ের এ অনুষ্ঠান দেখে খুশি সুদানের মানুষ।
দেশটির তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ফায়সাল মোহামেদ সালেহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এটি আমাদের বড় ধরনের সাফল্য। আমরা বিশ্বাস করি সুদানকে একনায়কতন্ত্র থেকে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে আসতে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। কারণ আমরা গোটা সুদানের সশস্ত্র গোষ্ঠী গুলোকে এ চুক্তিতে নিয়ে আসতে পেরেছি।’
এ চুক্তির পর সব ঠিক থাকলে সুদানে শান্তি সুনিশ্চিত হবে বলে মনে করছে দুই পক্ষ। তবে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই চুক্তিতে অংশ নেয়নি। ফলে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে গোষ্ঠী সংঘর্ষ ও গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত সুদান। গত বছর টানা প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকা সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
এর মধ্যে একের পর এক সরকারের পতন হয়েছে। সেনা বিদ্রোহে দেশ ছাড়তে হয়েছে সাবেক শাসকদের। এক একটি অঞ্চলের দখল নেয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে লাখ লাখ মানুষ বার বার ঘরছাড়া হয়েছেন। আশ্রয়শিবিরে ঘোর অনিশ্চয়তায় দিন কেটেছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে সোমবারের চুক্তিকে অধিকাংশ মানুষই ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন।
প্রায় নয় মাস ধরে এই চুক্তির পরিকল্পনা চলছিল। কিন্তু বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে রাজি করা করানো। দীর্ঘ আলোচনার পরে অধিকাংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
সুদানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদাক এ চুক্তিতে সই করেছেন। তার চেষ্টাতেই এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ।
শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ক্ষমতায় বণ্টন, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যুক্ত হয়েছে চুক্তিতে। এর ফলে নীল নদের উপত্যকা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যে বিতর্ক ছিল, সেটিও সুরাহা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। গৃহহীনরা তাদের বাসস্থানে ফিরতে পারবেন।
নীল নদের ধারে দক্ষিণ কোরদফান এবং পশ্চিম কোরদোফান নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সমস্যা রয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, ওই দুই অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোও জানিয়েছে, এই চুক্তি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে। সাধারণ মানুষ যন্ত্রণার থেকে মুক্তি পাবেন।
যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, সুদানের সবচেয়ে বড় দুইটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই চুক্তিতে অংশ নেয়নি। ফলে শান্তি প্রক্রিয়া কত দিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ওই দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠী শান্তির পক্ষে কথা না বললে ভবিষ্যতে সমস্যা আছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
তবে অস্থায়ী সরকার চুক্তিটি নিয়ে আশাবাদী। তাদের বক্তব্য, নতুন করে সুদানকে গড়ে তোলার বিষয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করা হয়েছে। সেনার বাজেট কমিয়ে তা মানুষের উন্নতিতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
চুক্তির অনুষ্ঠানের সাইডলাইন থেকে সংস্কৃতিমন্ত্রী মোহামেদ সালেহ বলেন, ‘আমরা জানি এ চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে আমাদের। কিন্তু (চুক্তি বাস্তবায়নে) আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে এবং সেনাবাহিনীতে থাকা আমাদের বন্ধুরাও এ ব্যাপারে আন্তরিক।’
এদিকে সোমবারের এই ঐতিহাসিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে এবং যুক্তরাজ্য। সুদানের উন্নতির জন্য তারা সাহায্য করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। ডয়চে ভেলে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button