Uncategorized

তৃতীয় দফা বন্যায় সুনামগঞ্জের লাখো মানুষ গৃহবন্দি

পাঁচ দিনের ব্যবধানে আবারো টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় তৃতীয় দফা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ। জেলা শহরের নতুন নতুন এলাকাসহ ছাতক দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লা এই সমস্ত উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ-লাখ মানুষ। সুনামগঞ্জে গত ১৫ জুন প্রথম দফা বন্যা এবং গত ১০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দেয়। ওই দুই দফা বন্যার দুর্ভোগ এখনো জেলাবাসী কাটিয়ে উঠতে পারেনি। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মানুষের বাড়ি-ঘর ও রাস্তা থেকে বন্যার পানি এখনো নামেনি। দুই দফা বন্যায় মানুষের ঘর-বাড়ির, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, গাছপালা, রাস্তা-ঘাট, চাষ করা মাছ বানের পানিতে ভেসে যাওয়াসহ কোটি-কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাজারো মানুষ তাদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে এখনো বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো তৃতীয় দফা বন্যায় ধেয়ে আসছে। এতে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জবাসী। গত শুক্রবার রাত থেকে বৃষ্টি হওয়ার কারণে জেলার সুরমা, যাদুকাটা, মরা সুরমা, রক্তি নদীসহ সীমান্ত এলাকার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শহরের ষোলঘর পয়েন্টস্থ সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে জেলার ছাতকের সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১৫৫ সেন্টিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সুনামগঞ্জ পৌরসভা ও ছাতক পৌর শহরের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়ি পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও ছাতক, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের রাস্তাটি পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জ শহরের কাজির পয়েন্ট, উকিলপাড়া, নতুনপাড়া, বড়পাড়া সাহেববাড়ি ঘাট, ষোলঘর হাজিপাড়া, জামতলাসহ অধিকাংশ এলাকার বাসাবাড়ি রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে মানুষজন চরম খাদ্য সঙ্কটে রয়েছেন।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যেভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে তাতে বন্যার আশঙ্কা থেকে জেলার প্রতিটি উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং বন্যায় কত হাজার পরিবার ঘরবন্দি হয়েছেন তাদের সঠিক পরিসংখ্যান এখনো জানা না গেলেও প্রায় লাখখানেক মানুষ পানিবন্দি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে জেলায় রোপা আমন, সবজি ক্ষেত ও পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ও জানা যায়। জেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানির তোড়ে সড়ক, স্থাপনা ও নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কে বাঘমারা থেকে শক্তিয়ারখলা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক বন্যার পানিতে প্লাবিত। জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ ও গজারিয়া এলাকার সড়কে কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমর পানি। মানুষ প্রযোজনীয় কাজে কলার ভেলা, ডিঙ্গী নায়ে পাড়া পাড় হয়ে যাতায়াত করছেন। তাহিরপুর উপজেলায় যেতে বাঘমারা এলাকা ছাড়াও সড়কের তাহিরপুর অংশে আনোয়ারপুর এলাকায় আবার নৌকায় পারাপার হতে হয়। সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কে প্রায় এক মাস ধরে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ। বন্যার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখনো জেলা সদরের সাথে জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা, ছাতক, দোয়ারা উপজেলার সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন জেলায় বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে জিআর ৬৭০ মেট্রিক টন জিআরের চাল ও নগদ ৫১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার লোক পানিবন্দি রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button