শিরোনাম

গাইবান্ধায় করোনার নমুনা পরিক্ষার ফল পেতে ১৫/২০ দিন দেরী হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধায় প্রতিদিন বাড়ছে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা, বাড়ছে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও। প্রতিদিন ১০থেকে ১২ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রথমদিন সংরক্ষন করে তা গাইবান্ধা সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে পাঠানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজের পরিক্ষাগারে। পরিক্ষা শেষে তার ফলাফল ই-মেইলে প্রেরন করা হয়। এতে নমুনা পরিক্ষার ফল পেতে ১৫ থেকে ২০দিন দেরী হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের। ফলে বাড়ছে করোনা সংক্রমন,সেই সাথে বাড়ছে হতাশা ও আতংক।অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন নমুনা নেয়ার বুথ না থাকায়,মাটিতে বসে নমুনা নেওয়ার সময় হাচি কাশির ড্রপলেট ছড়িয়ে ছিটিয়ে নমুনা নেয়ার স্থানগুলি জীবানু যুক্ত ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে।এরি মধ্যে জেলায় ডাক্তার,নার্স,স্বাস্থ্যকর্মী,পুলিশ, সাংবাদিকসহ করোনা সনাক্ত হয়েছে ২৮৬জনের। আর মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। করোনা উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিতে আসা রোগীরা জানান, করোনা নমুনা রিপোর্ট পেতে ১৫/২০দিন সময় লাগায় একদিকে যেমন রোগী বুঝতে পারেনা করোনায় আক্রান্ত কি না, অপর দিকে না বুঝে হরহামাশায় চলাচল করায় বাড়ছে করোনা সংক্রমন। আর সংকটাপন্ন রোগীরা রিপোর্ট পেতে দেরীতে পাওয়ায় সু-চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরন করছে। অজ্ঞাত কারনে ২/৪টি রিপোর্ট তারাতাড়ি আসে। ফলে বাধ্য হয়েই সাধারন রুগীরা জরুরী ভাবে রিপোর্ট পেতে ৪ হাজার টাকা ফি দিয়ে ঠেঙ্গামারায় নমুনা পরিক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে। নমুনা পরিক্ষায় এত হযবরল অবস্থায় রিপোর্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: রেজাউল করিম জানান, আমরা অনেক বেশী স্যাম্পল রংপুর পিসিআর ল্যাবে পাঠাই, এতে সমস্যা হচ্ছে, নমুনা রিপোর্ট পেতে ১৫-২০ দিন সময় লেগে যায়,এ রিপোর্ট গুলির মধ্যে অনেকে পজেটিভও ছিলো হয়তো, তারা অসাবধনতা বসত চলাফেরা করায় অনেকের মধ্যে সংক্রমন ছড়িয়ে দেয়। আর যদি আমরা দ্রুত রিপোর্ট পাই,তাহলে করোনা পজেটিভ রোগীদের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবো। এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বলেন, আমাদের স্যাম্পলগুলি পরিক্ষা করা হয় রংপুর মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে।এ স্যাম্পল গুলি প্রেরনের পর রিপোর্ট পেতে বেশ সময় লাগে,সেই কারনে রিপোর্ট না জেনে রোগীদের কোয়ারেন্টাইনে বাধ্য করা যায় না,তার পরেও আমরা কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আর আমাদের জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন হলে আমরা দ্রুত রিপোর্ট পাবো,এসব সমস্যা সমাধান হবে। পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে লিখেছি,দ্রুতই হয়তো সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button