বিনোদন

তারকা স্ত্রীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ‘করোনাযুদ্ধে’ বাংলাদেশি চিকিৎসক

মেয়ে লরেন এবং ছেলে ইথানকেও বাংলাদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন মারিয়া হক।
একজন নামকরা টিভি তারকা, আরেক জন জরুরি বিভাগের স্বনামধন্য চিকিৎসক। দুজনের বর্ণ যেমন আলাদা, ধর্মও তেমনি আলাদা। দেশও তাদের আলাদা। গত মার্চে দুজনের বিবাহ-বার্ষিকী ছিল। ছিল আয়োজনের পরিকল্পনা। সব বাদ দিয়েছেন। শুধুমাত্র করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকবেন বলে।
মারিয়া হক। মার্কিন অভিনেত্রী। ব্রাভো টিভিতে ‘ম্যারিড টু মেডিসিন’ শো করে খ্যাতির চূড়ায় উঠেছেন। ডাঃ আইদিন হক। বাংলাদেশ মেডিকেল থেকে পাস করে আমেরিকায় পাড়ি দেন। জর্জিয়ার পিডমন্ট হেনরি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কাজ করছেন।
আইদিন এবং মারিয়া করোনাকালে আটলান্টার স্থানীয় গণমাধ্যমে তুমুল আলোচনায় এসেছেন। বিবাহ-বার্ষিকীর অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণা দেয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারিয়া লেখেন, ‘আমার আর বেবির এই সপ্তাহে সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি বাতিল করেছি, যাতে ছুটির দিনেও আমার স্বামী মানুষের সেবা করতে পারেন।’
সম্পদশালী মারিয়া এই মহামারীর সময় আর্থিকভাবেও মানুষকে সহায়তা করছেন।
‘ম্যারিড টু মেডিসিন’ অনুষ্ঠান নিয়ে মারিয়া সম্প্রতি অনেক ঝামেলায় আছেন। নিজের পরিকল্পনায় এই অনুষ্ঠানটি চালুর পর জনপ্রিয় করেছেন। নিজে আবার প্রযোজকও। সেই তাকে কয়েক দিন আগে শো থেকে বাদ দেয়ার কথা বলা হয়!
মারিয়া জানিয়েছেন, কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে। আটলান্টা ব্ল্যাকস্টার নামের একটি ওয়েবসাইটকে তিনি বলেন, ‘শ্বেতাঙ্গ সহকর্মীদের তুলনায় আমার সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে। ব্রাভো টিভিতে আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আফ্রিকান-আমেরিকান হয়েও একটি শোয়ের প্রযোজক হয়েছি।’
‘আমি এখনো সামনের মৌসুমের চুক্তিপত্র পাইনি। আশা করছি এই সমস্যার সমাধান হবে।’
কর্মস্থলে মারিয়া বর্ণবাদের স্বীকার হলেও বাংলাদেশি স্বামীকে নিয়ে দারুণ সুখে আছেন। তাদের সুখের গল্পও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে।
বাংলাদেশপ্রেমী মারিয়া: আমেরিকায় তার সংসার হলেও বাংলাদেশকে তিনি আপন ভাবেন। নিজে খ্রিস্টান হয়েও মুসলিম স্বামীর সংস্কৃতিকে লালন করছেন। মাঝে মাঝেই তাকে শাড়ি পরে ফেইসবুকে ছবি দিতে দেখা যায়। বাঙালি মেয়েদের মতো নিজ হাতে নিয়মিত রান্নাও করেন। শুধু তাই নয়, স্বামীর ভাষাকে আরও আপন করতে বাংলা ভাষার ওপর পড়াশোনা করেছেন!
মেয়ে লরেন এবং ছেলে ইথানকেও বাংলাদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন।
বাংলাদেশি মানুষের কথা ভেবে স্বামীকে নিয়ে বাংলাদেশে একটি পারিবারিক ফাউন্ডেশন (হক) গড়েছেন।
হলিউড রিপোর্টারের ২০১৩ সালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শ্বশুরের নামে বাংলাদেশে মারিয়া একটি হাসপাতালও করার চেষ্টায় আছেন।
বাংলাদেশি এবং কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয়কে একসঙ্গে ধারণ করতে মারিয়া নিজেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘ব্ল্যাকদেশি’ বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। সুত্র : দেশ রূপান্তর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button