শিক্ষাশিরোনাম

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কুশপুতুল পোড়ালো প্রগতিশীল ছাত্র জোট

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগ এনে স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই সমাবেশের পর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন জোটের নেতাকর্মীরা। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানো হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াও সকলের জন্য সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসা নিশ্চিত করা, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আপৎকালীন স্বাস্থ্যখাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ করা, মহামারী মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা জনসম্মুখে হাজির করা, প্রতিটি জেলা শহরে ২৫টি ভেন্টিলেটর মেশিন ও আইসিইউ সাপোর্টসহ ৫০০ শয্যার করোনাভাইরাস ইউনিট চালু করা, সকল হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের ‘সিন্ডিকেট ভেঙে’ দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে অধিগ্রহণ করে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয় জোটের পক্ষ থেকে।
প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বক্তব্য দেন।
তারা অভিযোগ করেন, করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত মানুষের জীবন। লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, বিনা চিকিৎসায় হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে। তবে মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকারের ন্যূনতম প্রস্তুতি নেই। সরকার ব্যস্ত নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালায়ের ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতা পাহাড়-সমান। এই সময় সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশি বেশি টেস্ট করা প্রয়োজন হলেও ৪৩টি জেলায় কোনো পিসিআর মেশিন না থাকায় এবং টেস্ট কিটের অভাবে বিভিন্ন জেলায় তা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জোটের নেতারা।
তারা আরো অভিযোগ করেন, হাসপাতালগুলোতে নেই দক্ষ চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী। হাসপাতালগুলোতে নেই পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। অক্সিজেন সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মানুষের অসহায়ত্ব সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এই মহামারির সময়েও থেমে নেই চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা। নিম্নমানের মাস্ক-পিপিই সরবরাহ করে টাকা লুটে নিচ্ছে সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। দেশের চিকিৎসক-নার্স- স্বাস্থ্যকর্মীরা সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে মারা যাচ্ছেন। সরকারি হিসেবে, গত ২২ জুন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪২ জন ডাক্তার, ১০ জন নার্স। আক্রান্ত ১ হাজার ১৯০ জন ডাক্তার ও ২ হাজার ৪১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীরা যখন পিপিইয়ের অভাবে সম্মুখযুদ্ধে মারা যাচ্ছেন, তখন বেক্সিমকো গ্রুপ ৬৫ লাখ পিস পিপিই ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি করে। এই হলো মুনাফাকেন্দ্রিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আসল চিত্র।
সরকারের দেয়া তথ্যের চেয়ে সংক্রমণের বাস্তব চিত্র বহুগুণ বেশি। এসব নিয়ে কথা বললেই চলছে গ্রেপ্তার-নির্যাতন। এই অবস্থায় প্রয়োজন ছিল মানুষের ঘরে-ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিয়ে লকডাউন জোরদার করা। কিন্তু তা না করে জাতীয় স্বার্থের কথা বলে পুঁজিপতিদের স্বার্থে লকডাউন তুলে দেয়া হলো। লাখো-কোটি মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়া হলো। সরকার শুধু জিডিপির কথা বলছে। কিন্তু এই জিডিপি’র মধ্যে মানুষ নেই এবং তা নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনকে রক্ষা করছে পারছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন। পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button