বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিরোনাম

প্রকৃতিই করোনা ভ্যাকসিনের ধারণা দিয়ে দিয়েছে: ফাউসি

অনেকটা সময় পার হয়ে গেলেও করোনাভাইরাসের কার্যকরী কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধের সন্ধান মেলেনি এখনো। বিজ্ঞানীদের অনেকে এই প্রচেষ্টাকে ‘মুটশট’ তথা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ও উদ্ভাবনী প্রকল্প বলে উল্লেখ করলেও তা মানতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্রের করোনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য অ্যান্থনি ফাউসি। জানিয়েছেন, প্রকৃতি থেকেই প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ভ্যাকসিনের ধারণা পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীদের অনেকে বলছেন, এখন পর্যন্ত মানুষ্য শরীরে কার্যকর করোনাভাইরাসের এমন সফল কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। তাতে এইচআইভি’র প্রসঙ্গটিও উঠে আসছে। যুগের যুগ ধরে চেষ্টা করেও আজ পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই রোগটির কোনো ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি।
অবশ্য, এইচআইভি’র সঙ্গে করোনাভাইরাস তুলনা করা যায় না বলে মনে করেন ফাউসি। বরং অতি শিগগিরই কভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী তিনি।
“করোনাভাইরাস নিয়ে আমার অধিক আত্মবিশ্বাসের কারণটা হলো যে, আমরা জানি অধিকাংশ মানুষ নিজেদের কভিড-১৯ থেকে মুক্তি পেয়েছে। কারণ, তাদের ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসটিতে তাড়িয়ে দিতে পেরেছে।”
“তাই, প্রকৃতিই এরই মধ্যে আপনাকে (ভ্যাকসিনের) ধারণার একটা প্রমাণ দিয়ে দিয়েছে যে, এটা হতে পারে।”
যেসব মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছেন তাদের শরীরে যেহেতু ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে পারা অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তাই বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, এসব অ্যান্ডিবডি মানবসৃষ্ট অ্যান্টিজেন দ্বারাও তৈরি করা যেতে পারে।
ফাউসি আরও জানান, মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে পশুর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের প্রাথমিক গবেষণা নিয়ে অনেকটাই আশাবাদী। তার মতে, এই ভ্যাকসিনের মানুষ্য গবেষণার প্রাথমিক ফলও ‘উৎসাহদায়ক’।
ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে এখন পর্যন্ত মডার্না ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চেষ্টা ‘প্রাথমিকভাবে এগিয়ে’ থাকলেও এগুলোর চূড়ান্ত ফল সবচেয়ে সফল হবে কি-না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না বলে মনে করেন ফাউসি।
ফাউসি বলেন, যুক্তরাজ্যে করোনা চিকিৎসায় স্টেরয়েড ডেস্কামেথাসনের ট্রায়ালের ফলাঠলে তিনি ‘খুবই মুগ্ধ’। এই পরীক্ষায় দেখা যায় ভেন্টিলেশনে থাকা কভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি এক–তৃতীয়াংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ওষুধ সংক্রমণের পর পরই প্রয়োগ করা উচিত হবে না বলে মনে করেন এই বিখ্যাত এই চিকিৎসক ও ইমিনোলোজিস্ট।
ফাউসির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে লকডাউনের মতো আর কোনো পদক্ষেপের দরকার নেই। তার দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এগুচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button