জাতীয়শিরোনাম

করোনা চিকিৎসা: বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে অভিযোগ থাকলে কোথায় যাবেন? কী করবেন?

বাংলাদেশে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের হয়রানি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই।

করোনাভাইরাসের এই সংকটের সময় রাজধানীর ইউনাইটেড এবং আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এসেছে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে।

সম্প্রতি ইউনাইটেড হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্মিত অস্থায়ী ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজন রোগী মারা গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে ঢাকার গুলশান থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে একজন কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসার জন্য ১,৭০,০০০ টাকা বিল ধরিয়ে দেয়া হয়।

এরপর রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক দেন-দরবার করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১,৫০,০০০ টাকা বিল রাখতে সম্মত হয়।

এ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে খবর হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারকে আরো ১,২৭,০০০ টাকা ফিরিয়ে দেয়।

ইউনাইটেড হাসপাতাল এবং আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতাল – দুটো ক্ষেত্রেই রোগীদের অভিযোগ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

প্রশ্ন হচ্ছে, হাসপাতাল সংক্রান্ত রোগীদের কোন অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে তারা কিভাবে প্রতিকার পাবেন?

চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগ

যে কোন হাসপাতালের দুটো দিক থাকে। একটি হচ্ছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত এবং অপরটি হচ্ছে, ব্যবস্থাপনা বিষয়।

হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে অনেকের অভিযোগ থাকে।

এছাড়া চিকিৎসকদের ‘ভুল চিকিৎসা’ কিংবা অবহেলার অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) অভিযোগ করতে পারেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি বা তার পরিবার। চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন দেয় স্বায়ত্তশাসিত এ সংস্থাটি।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য এবং চিকিৎসক অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে বিএমডিসি।

হাসপাতাল 
 সরকারি হাসপাতালে স্থান না পাওয়ার কারণে অনেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হয়।

অন্যদিকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য লাইসেন্স দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

লাইসেন্স দেবার আগে হাসপাতালগুলোকে শর্ত দেয়া হয়। সেসব শর্ত ভঙ্গ করলে লাইসেন্স বাতিল করতে পারে বলে উল্লেখ করেন আইনজীবী মি. মোরশেদ।

মামলা করে লাভ হয়?

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীরা কখনো-কখনো থানায় কিংবা আদালতে মামলা করেন।

অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, বাংলাদেশে অবহেলা সংক্রান্ত কোন আইন নেই।

অধ্যাপক মাহবুব বলেন, “আমাদের এখানে ফৌজদারি আইনে এটা করতে হয়। অথবা সিভিল ল’তে আপনি কমপেনসেশন (ক্ষতিপূরণ) দাবি করতে পারেন। ফৌজদারি আইনে মামলা করতে হয় পুলিশের মাধ্যমে।”

“মানুষজন প্রথমে উত্তেজিত হয়ে ফৌজদারি আইন প্রেফার করে। ওটাতে কোন সমাধান পাওয়া যায় না। এখানে সমস্যা আছে। হাসপাতাল এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্ত করার জন্য পুলিশ দক্ষ নয়।”

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর লাইসেন্স বাতিল করার কোন নজির নেই।

“আমাদের দেশে যারা ভুক্তভোগী হয়, তারা প্রতিকারের জন্য এগিয়ে আসেনা এটাই হলো বড় সমস্যা,” বলেন মি. মোরশেদ।

টেস্ট খরচ বেশি হলে কী করবেন?

অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল টেস্টের ক্ষেত্রে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সাথে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালের মূল্য তালিকায় যথেষ্ট পার্থক্য আছে।

হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা দেবার সময় নানা ধরণের টেস্ট করতে হয়।

ফলে হাসপাতাল থেকে রোগীকে ছাড়পত্র দেবার দেবার মোটা অংকের বিল দেয়া হয়। বিলের অংক দেখে অনেকেই বিস্মিত হন।

অন্য হাসপাতালের তুলনায় রোগীর টেস্ট বাবদ বেশি টাকা নেয়া হলে সেটির কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে কি না?

আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, কোন টেস্টের জন্য কত টাকা নেয়া হবে সে সংক্রান্ত কোন বিধি-বিধান নেই। তিনি বলেন, ফি নির্ধারণ করে দেয়া বেশ কঠিন কাজ।

কারণ এটা নির্ভর করে হাসপাতালগুলোর বিনিয়োগের উপর। কোন হাসপাতাল যদি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে, তখন সেখানকার টেস্ট অন্যদের চেয়ে ব্যয়বহুল হতে পারে।

চিকিৎসক অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, একটি টেস্টের জন্য মেশিন এবং উপকরণের মান কী হবে সেটা সরকার নির্ধারণ করেনি।

যদি মান নির্ধারণ করে দিতো তাহলে হয়তো টেস্ট করার সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দেয়া সম্ভব হতো বলে অধ্যাপক মাহবুব উল্লেখ করেন।

তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে সরকার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।

বিশেষ করে ডেঙ্গু জ্বরের টেস্ট করানোর ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলো কতটা নিতে পারবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

এছাড়া হৃদরোগীদের স্টেন্টিং (রিং) করানোর ক্ষেত্রেও খরচ নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

যদিও সব জায়গায় সেটি মেনে চলা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button