শিরোনাম

দুই দম্পতিসহ পঞ্চগড়ে আরও ১২ জন করোনা আক্রান্ত

সংবাদদাতা, পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে নতুন করে দুই দম্পতিসহ আরও ১২ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮০ জনে।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান জানান, রবিবার রাতে প্রাপ্ত ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ১২ জনের করোনা পজিটিভ আসে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জনই দেবীগঞ্জ উপজেলার। এছাড়া আটোয়ারীতে ২ জন ও তেঁতুলিয়ায় রয়েছেন ৩ জন।
তিনি জানান, দেবীগঞ্জের আক্রান্ত ৭ জনের মধ্যে ৫ জনই দন্ডপাল ইউনিয়নের একই গ্রামের বাসিন্দা।
এছাড়া আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়ায় আক্রান্ত দুই দম্পতি রয়েছেন। আক্রান্তরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসার পর থেকে তারা নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।
গত ২৮ মে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানোর পর ৩১ মে তাদের করোনা পজিটিভ এসেছে। দেবীগঞ্জ উপজেলার আক্রান্ত ৮ জন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর ও কুমিল্লা ফেরত।
এই ৮ জনের মধ্যে ৫ জন একই পরিবারের তাদের বাড়ি দন্ডপাল ইউনিয়নের প্রধানাবাদ গ্রামে। তারা মাদারীপুর ফেরত। তাদের বয়স ১৬-৩৬ বছরের মধ্যে। সেখানে তাদের পরিবারের প্রধান মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ এ লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে পরিবারের বাকি সদস্যরা পঞ্চগড়ে চলে আসেন। আক্রান্তদের বাকি ৩ জন পামুলি ইউনিয়নের আহমদনগর ও কাটনহারী এলাকার বাসিন্দা। তারা কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা ফেরত। তাদের বয়স ২০-৪০ বছরের মধ্যে। সেখানে তারা গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
সিভিল সার্জন জানান, এ পর্যন্ত জেলায় ১২৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ১২১৮ জনের রিপোর্ট এসেছে। তার মধ্যে ৮০ জনের করোনা পজিটিভ ফলাফল এসেছে। ইতিমধ্যে ১২ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এছাড়া ১৯ মে ষাটোর্ধ্ব ১ জন ও ২৯ মে অশীতিপর আরেকজন মারা যান। অন্যরা প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান বলেন, আক্রান্তদের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংক্রমণের বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক নানা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, করোনা আক্রান্তরা সবাই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরত। এদের বেশিরভাগই বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button