বাগেরহাটে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূল রক্ষাবাঁধ : নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের প্রধান নদনদীগুলোতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। দুপুরে এসব নদনদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলার প্রধান প্রধান নদ নদীতে পানির প্রবল চাপ বাড়ায় উপকূল রক্ষা বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এতে জেলার বিপুল পরিমাণ মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা মৎস্য বিভাগের।
দুপুরের জোয়ারের পানির প্রবল চাপে উপকূলীয় শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদ সংলগ্ন রায়েন্দা বাজারে ২০০ মিটার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
পরে স্থানীয় গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে ভেঙে যাওয়া অংশ দ্রুত মেরামত করেছে। এতে বাগেরহাটের প্রবল প্রমত্তা বলেশ্বর নদের প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, দুপুরের বলেশ্বর নদের জোয়ারে পানির চাপে রায়েন্দা বাজারের ২০০ মিটার বাঁধ অংশে ভাঙন দেখার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজনকে সাথে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি মেরামত করা হয়েছে। এই নদীতে পানির চাপ আরও বাড়লে বাঁধ ভেঙে ও উপচে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছি।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী মো. নাহিদ উজ জামান খান দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পর পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করে তা সংস্কার করা হয়। ঝড় বাংলাদেশ অংশে আসার শঙ্কায় উপকূলীয় বাগেরহাটের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান প্রধান নদনদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অন্তত পাঁচ ছয় ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
যেভাবে নদনদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে তাতে জেলার শরণখোলা উপজেলার ৩৫/১ পোল্ডারে বলেশ^র নদের গাবতলা থেকে বগি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদনদীতে পানির যে চাপ এটা যদি বাড়তে থাকে তাহলে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. খালেদ কনক দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, বাগেরহাট জেলায় বাগদা ও গলদা মিলিয়ে ৭৮ হাজার ১০০টি ঘের রয়েছে। চলতি মৌসুমে চিংড়ি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ হাজার ৯৪৮ মেট্রিকটন। জেলার নদ নদীতে পানির চাপ বেড়েছে। জেলার মাছের ঘেরগুলো অধিকাংশ নদীবেষ্টিত এলাকায়।
জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে পানি ঢুকে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হয়েছে। পানিতে তলিয়ে মাছ যাতে বের হয়ে যেতে না পারে সেজন্য ঘের মালিকদের ঘেরের চারপাশে নেট ও জাল দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্পানের পূর্বাভাস পাওয়ার পর গত রবিবার বিকেল থেকে জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। মোংলা বন্দরে বর্তমানে পণ্যবাহী দেশি-বিদেশি ১১টি জাহাজ রয়েছে। আমরা এই জাহাজগুলোকে নিরাপদে অ্যাঙ্কর করেছি। বন্দরের নিজস্ব ৩২ আধুনিক নৌযান বন্দর জেটিতে নিরাপদে সরিয়ে রাখা হয়েছে। খোলা হয়েছে ঝড় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বন্দরের সরঞ্জাম ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সুত্র : দেশ রূপান্তর।




