শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

করেনার টিকা উৎপাদন শুরু মে থেকে

বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এখন করোনার ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে। যুক্তরাজ্যে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা অনেকখানি এগিয়েছে। তাতে পুরো সাফল্য আসার আগেই ভ্যাকসিন তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলো।
আর অপেক্ষা করতে রাজি নয় ভারতের পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট। তারা এখন থেকেই করোনার টিকা তৈরির প্রস্তুতি সেরে ফেলছেন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে করোনার টিকা এখন মানুষের শরীরে পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত ২৩ এপ্রিল তার প্রথম পরীক্ষা হয়েছে।
তারপরই মহারাষ্ট্রের পুনেতে সেরাম ইনস্টিটিউট ঠিক করেছে, তারা এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা সফল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। তার আগেই প্রস্তুতি সেরে ফেলবে। অক্সফোর্ডের যে কনসোর্টিয়াম ভ্যাকসিন বানাচ্ছে, তাদের সঙ্গে সেরামের চুক্তি আছে।
সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদার পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, ”আমরা আর অপেক্ষা করব না। আমরা মে মাস থেকে শ’খানেক রোগীর ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করব। পরীক্ষা সফল হলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ভ্যাকসিন বাজারে ছেড়ে দেওয়া হবে।”
কত উৎপাদন হবে এবং ভ্যাকসিনের দাম কত হবে সেটাও আগাম জানিয়েছেন পুনাওয়ালা। তিনি বলেছেন, ”ভারতে ভ্যাকসিনের দাম হবে এক হাজার টাকা। এর মধ্যে আমাদের খরচও ধরা আছে। লোকে যাতে ভ্যাকসিন কিনতে পারেন, সেটাও মাথায় রাখা হয়েছে। তবে বিদেশে দাম বেশি হতে পারে। এমএমআর ভ্যাকসিন ভারতে যে দামে পাওয়া যায়, তার তুলনায় যুক্তরাজ্যে দাম দশগুণ বেশি।”
তবে পুনাওয়ালার কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে, মে মাস থেকে উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও ভ্যাকসিন বাজারে আসতে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর হয়ে যাবে।
পুনাওয়ালার সাফ কথা, ”আমরা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করব না। সেপ্টেম্বরে ভ্যাকসিনের যাবতীয় প্রয়োগ সফল হওয়ার পর উৎপাদন শুরু করলে দেরি হয়ে যাবে। আমরা নিজেদের ঝুঁকিতে ও খরচে আগে থেকেই পুরো প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। যাতে পরীক্ষা সফল হয়ে গেলেই সেপ্টেম্বর থেকে প্রচুর পরিমাণে ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়া যায়।”
প্রথমে ৪০ থেকে ৫০ লাখ করে ভ্যাকসিন বানাতে চান তারা। ছয় মাস পরে সংখ্যাটা এক কোটিতে পৌঁছে যাবে। পরীক্ষা সফল হলে বিশ্বে যাতে ভ্যাকসিনের অভাব না হয়, সেটাই তারা দেখবেন। পুনের
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেরও বলেছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে করোনার ভ্যাকসিন বানাবার চেষ্টা করছে। অ্যামেরিকার উইসকনসিন ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্লুজেন নামে একটি সংস্থার সঙ্গে হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেকের চুক্তি হয়েছে। পরীক্ষা সফল হলে তারা বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটি ভ্যাকসিন সরবরাহ করবেন।
দিল্লিতে এখন করোনার প্লাজমা পরীক্ষাও সাফল্য পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওাল রোববার জানিয়েছেন, ”একজন রোগীর অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক হয়ে গিয়েছিল। তাকে প্লাজমা দেওয়ার পর তিনি বিপদ অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন। তিনি আইসিইউ-তেই আছেন। তবে আগের থেকে অবস্থা অনেক ভালো। করোনার চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি সাফল্য পাওয়ায় আমার আশা বাড়ছে।”
এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য প্লাজমা থেরাপি দিয়ে করোনা সারাবার চেষ্টা করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্লাজমা থেরাপি হলো, করোনা হওয়ার পর যারা ভালো হয়ে গিয়েছেন, তাদের রক্ত থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে তা রোগীর শরীরে দেওয়া হয়। কারণ, প্লাজমায় ওই রোগের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেই প্লাজমা করোনা রোগীর শরীরে ঢুকিয়ে দিলে কাজ হচ্ছে বলে প্রথামিকভাবে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তবে ভারতে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৩৯৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গিয়েছেন ৪৮ জন। সবমিলিয়ে ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৮৯২ জন। মৃত ৮৭২ জন। ডয়চে ভেলে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button