শিরোনাম

পুলিশ কর্মকর্তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন

করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ দাফনে জমি দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি মানিকগঞ্জে সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম সাংবাদিক মো: লিয়াকত আলীর ছেলে, পুলিশের সিনিয়র এএসপি এনায়েত করিম রাসেল। তিনি বর্তমানে সিআইডিতে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা এলাকায়।
নিজ এলাকা মানিকগঞ্জের ওই জমিটি নিজেদের পাশাপাশি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের জন্য এক বছর আগে তিনি কিনেছিলেন। জমির পরিমাণ ১০ শতাংশ। আরো ২২ শতাংশ জমি কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মানিকগঞ্জের কিম্বা বাংলাদেশের যে কেউ আল্লাহ না করুক করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে বিনা সংকোচে আসুন। গংগাধরপট্টি চকে উত্তর-পূর্ব কোণে (নওখন্ডা) আমাদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা যাবে। আশেপাশে কোনো জনবসতিও নেই। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এখানে কবর দেয়া সবার জন্য উন্মুক্ত।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক অথবা মেয়রের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের মোবাইল নম্বর (০১৭৩০৩৩৬২২৩), ও তিন বন্ধু ডিএফএম লোটাস (০১৭৭৭৩০৫০১৬), ও শুভ (০১৭১২২৯২৯২২), মোস্তফা (০১৭১২৫৫৭০৮৬) যে কারো সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেছেন এনায়েত রাসেল।
এমন উদ্যোগের বিষয়ে এনায়েত করিম রাসেল বলেন, ‘গত বছর আমি জমিটা কিনেছি। যেখানে বেওয়ারিশ লাশ দাফন করতে পারবেন এমন চিন্তা ছিল। কিন্তু করোনার আক্রমণের পর দেখতে পাচ্ছি অনেক জায়গায় লাশ দাফন করতে দেয়া হচ্ছে না। এটা দেখে খুব কষ্ট লাগলো। পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখানে চাইলে যে কেউ করোনার রোগী বা বেওয়ারিশ লাশ দাফন করতে পারবেন।’
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘যারা কবর দিতে বাধা প্রদান করে তারা যেন আজীবন জীবিত থাকেন।’
তিনি জানান, ‘তার দেয়া কবরস্থানে এখনো কোনো লাশ দাফন করা হয়নি। তবে সেখানে একটি খাটিয়ার ব্যবস্থা করা আছে, যাতে লাশ বহন করতে সুবিধা হয়।’
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, যেখানো করোনার উপসর্গ নিয়ে মানুষ মারা গেলে নানা ধরনের প্রতিকূল অবস্থায় পড়তে হচ্ছে, সেখানে এমন উদ্যোগ অবশ্যই মানবিকতার বড় উদাহরণ। আমরা তাদের অ্যাপ্রেসিয়েট করি। কারণ তাদের দেখাদেখি আরো অনেকে হয়তো মানবিক কাজে এগিয়ে আসবেন।
মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু বলেন, এই ভাল উদ্যোগকে অবশ্যই স্বাগত জানাই এবং সেই সাথে জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়র সাহেবদের নিকট আমার অনুরোধ, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে দানকৃত জায়গাটিকে কবরস্থান হিসেবে স্বীকৃতি দান করুন।
সুত্র : নয়াদিগন্ত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button