করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়ে এই নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই মতবিনিময়ে তিনি করোনা সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- এক. সারাদেশে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে ত্রাণ কমিটি গঠন করতে হবে; সব সাংগঠনিক উপজেলা শাখার নেতাদের অতিদ্রুত ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লগের ত্রাণ কমিটি প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক জেলা শাখায় জমা দিতে হবে; এই ত্রাণ কমিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে দল-মত নির্বিশেষে প্রকৃত দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের তালিকা প্রস্তুত করবে এবং ওই তালিকা স্থানীয় প্রশাসনকে দিয়ে সঠিক তালিকা প্রণয়নে সহায়তা ও সমন্বয় করবে।
একইসঙ্গে এই কমিটি মানুষের মানবিক সংকটে সার্বিক সহযোগিতা এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করবে।
দুই. বর্তমানে ৫০ লাখ হতদরিদ্র, দুস্থ, অসহায় ও কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষকে সরকারিভাবে রেশন কার্ডের আওতাভুক্ত করা হয়েছে এবং করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় আরও ৫০ লাখ মানুষকে রেশন কার্ডের অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দল-মত নির্বিশেষে সমাজের হতদরিদ্র, দুস্থ, অসহায় ও কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষ যাতে অন্তর্ভুক্ত হয় সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা দেবে।
তিন. আওয়ামী লীগের এই ত্রাণ কমিটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ সরকারি নির্দেশনা পালন, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য জনগণকে সচেতন করবে এবং মানবিক সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়াবে। পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
এ সময় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্য সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




