প্রথম কোচের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিলেন সৌরভ

চলমান করোনাভাইরাস সংকটে এরই মধ্যে মানবিক সৌরভ গাঙ্গুলির দেখা মিলেছে অনেকবার। বেলুড় মঠে গিয়ে দু’হাজার কিলো চাল দিয়েছেন। শনিবার ইসকনে গিয়ে প্রতিদিন দশ হাজার লোকের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। কারও সমস্যার কথা শুনলেই এগিয়ে যাচ্ছেন। এবার এগিয়ে আসলেন অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জীবনের প্রথম কোচের প্রতি। চিকিৎসার সমস্ত ভার নিলেন বিসিসিআই সভাপতি।
টিম ইন্ডিয়ার সাবেক অধিনায়ক রোববার খবর পান, তার প্রথম কোচ অশোক মুস্তাফি অসুস্থ। সৌরভের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সঞ্জয় দাস খবরটা প্রথমে জানতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে সৌরভকে ফোন করে জানান।
দুঃখীরাম ক্রিকেট কোচিং সেন্টারে অশোক স্যারের কাছে প্র্যাকটিস করতেন সৌরভ-সঞ্জয়রা। বিশেষ করে সৌরভের ক্রিকেটের হাতেখড়ি অশোক স্যারের কাছেই।
এক সময় দুঃখীরাম কোচিং সেন্টারকে বাংলা ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর বলা হতো। ওখান থেকে প্রচুর ক্রিকেটার উঠে এসেছেন। প্রবাল দত্ত থেকে শুরু করে অরিন্দম সরকার, এমন অন্তত ২০ জন ক্রিকেটার যারা রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছেন, তাদের উঠে আসা অশোক মুস্তাফির কোচিংয়েই।
সৌরভের উত্থানের শুরুটাও দুঃখী রাম কোচিং সেন্টার থেকেই। আরও ভালো করে বললে মুস্তাফির স্যারের হাত ধরে। সঞ্জয় বলছিলেন, “আমাদের স্যার বাংলা ক্রিকেটের রমাকান্ত আচরেকার (রমাকান্ত আচরেকার শচীন টেন্ডুলকারের ক্রিকেট গুরু)। তার প্রচুর অবদান রয়েছে।”
জানা গেছে, বেশ কিছুদিন বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন অশোক মুস্তাফি। শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। সল্টলেকের বাড়িতে একাই থাকেন। মেয়ে থাকেন ইংল্যান্ডে। বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অশোক মুস্তাফিকে। ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা চলছে তার।
সৌরভ তার কোচের অসুস্থতার খবর শোনামাত্র সবকিছুর ব্যবস্থা করে দেন। খবর নিয়ে জানা গেল, সৌরভ নিজে হাসপাতালে ফোন করে কোচের খবরাখবর নিয়েছেন। বলেন, যে কোনো প্রয়োজনে তিনি আছেন।



