
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে ফের বেফাঁস মন্তব্য করলেন কলকাতার বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। “যারা আল্লাহর ভরসায় রয়েছেন, তাঁরাই আক্রান্ত হচ্ছেন”, এমনটাই দাবি করেন তিনি। বিজেপি সাংসদের এহেন মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। সেই সঙ্গে এদিন ফের তিনি অভিযোগ করেন যে, করোনা নিয়েও রাজনীতি করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
দুস্থদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিতে বুধবার হাওড়া গিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন সায়ন্তন বসুও । সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। নাম না করেই রাজ্য ক্রমশ বেড়ে চলায় করোনার পিছনে মুসলিমদেরই দায়ী করেন তিনি। বলেন, “বিদেশ থেকে বহু মানুষ এখানে আসছেন। টুরিস্ট ভিসা নিয়ে আসেন। যেহেতু বিশেষ সম্প্রদায়ভুক্ত তাই তাঁদের কিছু বলা যাবে না। আর তার পরিণামই আমরা এখন ভোগ করছি।” মন্দির করোনা মোকাবিলায় সাহায্যের হাত বাড়ালেও মসজিদ সে অর্থে এগিয়ে আসেনি, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সাংসদ।
বলেন, “যারা আল্লাহর দয়ায় সুস্থ হবেন বলছেন তাঁরাই আক্রান্ত হচ্ছেন।” কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মন্দির জমায়েত বন্ধ করলেও এগিয়ে আসছেন না মসজিদ। পাশাপাশি নিজামুদ্দিনের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
হাওড়া থেকে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একহাত নেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীই রাজ্যবাসীর ক্ষতি করছেন। কারণ, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কঠোর হওয়ার উচিত ছিল মুখ্যমন্ত্রীর, উলটে রাস্তায় ঘুরছেন তিনি! এমনটাই দাবি সাংসদের।
পাশপাশি, জমায়েত করতে ত্রাণ বিলি প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীরই কড়া সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, “এতদিন ঘরেই ছিলাম। কিন্তু রাজ্য সরকার বারবার বলছে বিজেপিকে এই সংকটে দেখা যাচ্ছে না। তাই পথে নামা।” তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে আরও কঠোর হওয়া উচিত মুখ্যমন্ত্রীর, নাহলে কোনও ভাবেই মারণ ভাইরাসকে প্রতিরোধ করা যাবে না বলেই মন্তব্য বিজেপি সাংসদের।
প্রসঙ্গত, ভারতে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার সকালে দেশের ৫০তম ব্যক্তি করোনায় মারা গেছেন। হরিয়ানায় প্রাণ গিয়েছে ৬৭ বছরের এক বৃদ্ধের। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।
এ দিন সকালে চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত এক বৃদ্ধের। তিনিই হলেন দেশে করোনায় মৃত ৫০ তম ব্যক্তি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৯৬৫ জন।




