বিবিধশিরোনাম

চিকিৎসা উপকরণ ফুরিয়ে যাচ্ছে, অমনি নড়েচড়ে উঠলো সরকার

থেরেসা ট্যাম যেই বললেন, আরও বেশি চিকিৎসা সামগ্রী দরকার, আরও বেশি। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জেতার জন্য, মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আরও চিকিৎসা উপকরণ দরকার, জরুরি দরকার। আমাদের চিকিৎসা উপকরণ ফুরিয়ে যাচ্ছে, দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। অমনি পুরো সরকারই যেনো নড়েচড়ে উঠলো।
এই মূহুর্তে থেরেসা ট্যামের কথাই যেনো বেদবাক্য। ট্যাম কি বলেন, কি চান- তা শোনার জন্যই যেনো অপেক্ষায় থাকে পুরো সরকার, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। থেরেসা ট্যাম, কানাডা চীফ পাবলিক মেডিকেল অফিসার।
ট্যামের এই বক্তব্যের পর অস্থির হয়ে উঠে সরকার, প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। ফেডারেল সরকার তার শিল্পনীতি পাল্টে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। ঘোষণা দেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদনের এগিয়ে আসা কোম্পানিকে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ঘোষণা দেন, ভেন্টিলেটর, ডায়াগনস্টিক কিট, মেডিকেল প্রটেকটিভ কীট, তথা করোনার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী যাদের কাছে যা আছে সরকার তা কিনে নেবে।
ঘোষণ দিয়ে ক্ষ্যান্ত হয়নি ফেডারেল সরকার। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ছুটে যায় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নিজে আকুতি জানান, তোমাদের যতোটা উৎপাদন ক্ষমতা আছে, পুরোটা কাজে লাগিয়ে চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদন করো। প্রধানমন্ত্রীর হয়ে সরকারের ক্রয়মন্ত্রী ঘোষণা দেন, তোমার যা কিছু উৎপাদন করবে সব আমরা কিনে নেবো। চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে একজন নাগরিকের চিকিৎসায়ও যেনো বিঘ্ন না ঘটে।
সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেয় কোম্পানিগুলো। যে কোম্পানি গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে, তারাও এগিয়ে আসে তাদের স্থাপনা, মেশিনারিজ দিতে চায় চিকিৎসা সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহারের জন্য।
টরন্টোর একটি কোম্পানি দায়িত্ব নেয় ভেন্টিলেশন যন্ত্রপাতির, মন্ট্রিয়লের একটি কোম্পানি দায়িত্ব নেয় মাস্ক আর অটোয়ার কোম্পানিটি পোর্টেবল ডায়াগনস্টিক কিটস এর। আরও কোম্পানির সাথে কথা বলছে সরকার। সরকারের বার্তা পরিষ্কার, পয়সা নিয়ে তোমাদের চিন্তা করার দরকার নাই, পুরো কোম্পানির পণ্যই আমরা কিনে নেবো। তোমরা শুধু তোমাদের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা দিয়ে চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদন করতে থাকো। যতো দ্রুত সম্ভব আমাদের সরবরাহ দাও।
থেরেসা ট্যাম এবং তার টীমকে চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে দিতে চান না ট্রুডোর সরকার। সরকারের চাওয়া চিকিৎসকদের মনোযোগ কেবল চিকিৎসার দিকে, রোগীদের দিকে, গবেষণার দিকেই থাকুক। তাদের প্রয়োজন মতো সবকিছু সরবরাহ দেওয়ার দায়িত্ব সরকার নিজের কাঁধে নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button