
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে’ দিল্লি হাইকোর্টকে শুক্রবার সব আবেদন গ্রহণ করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এনডিটিভি জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি সহিসংতা সম্পর্কিত মামলার বিষয়ে আরও কিছুদিন সময় চেয়েছিল। বুধবার ওই আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, বিজেপি নেতাদের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে করা আবেদনসহ দিল্লিতে সহিংসতা সম্পর্কিত সমস্ত মামলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই দিল্লির আদালতে শুনানি হওয়া উচিত।
প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই মামলাগুলো শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির অধীনে মামলার তালিকাভুক্ত করার কথা বলছি। আমাদের অনুরোধ, হাইকোর্ট এই মামলাগুলো যতটা সম্ভব দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করুক।’
উল্লেখ্য, বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ বন্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রার আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সিএএ-বিরোধী মুসলিমদের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে আইনটির সমর্থকরা।
কয়েক দশকের মধ্যে দিল্লির নজিরবিহীন এই সাম্প্রদায়িক হামলায় কমপক্ষে ৫১ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক। আহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন গুলিবিদ্ধ।
এ ঘটনার ন্যায়বিচার চেয়ে প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নিহতদের পরিবার। কিন্তু সেখানে মামলার শুনানির দিন অনেক দেরিতে দেওয়ায় দ্রুত শুনানির আর্জিতে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন তারা।
বিজেপি নেতাদের বিদ্বেষমূলক প্ররোচনার জেরেই দিল্লিতে সহিংসতা ছড়িয়েছে, তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক- এই আবেদনও করা হয়েছে আদালতে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যায়। কোথাও আবার নিজ হাতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙেছে পুলিশ।




