সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে সার্কুলার কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব খাতে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ তিনজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি আবু তাহের সাইফুর রহমান ও বিচারপতি জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিটে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ব্যাংকের সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করা সংক্রান্ত সার্কুলার স্থগিত চাওয়া হয়।
এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ওই সার্কুলার জারি করে। এর বৈধতা নিয়ে মাহফুজুর রহমান নামের এক আইন শিক্ষার্থী আবেদনকারী হয়ে চলতি সপ্তাহে রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান।
আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক বলেন, সার্কুলারে শুধু ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কথা আছে। ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ হারে সুদ নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ ব্যাংক নয়-এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কথা সার্কুলারে নাই, যা স্বেচ্ছাচারী। ফলে নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছামাফিক ঋণের বিপরীতে সুদ নিতে পারবে, যা বৈষম্যমূলক। সার্কুলারে আমানতকারীদের বিষয়েও বলা নেই। মৌখিকভাবে বলা হচ্ছে আমানতকারী ৬ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। এতে দুই কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান কেন, নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে-এসব যুক্তিতে রিটটি করা হলে আদালত ওই রুল দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ব্যাংকের সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করা সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
‘ঋণ, বিনিয়োগের সুদ, মুনাফা হার যৌক্তিকীকরণ’ শীর্ষক সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ব্যাংকের ঋণ, বিনিয়োগের উচ্চ সুদ, মুনাফা হার দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পসহ ব্যবসা ও সেবা খাতের বিকাশে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক ঋণ, বিনিয়োগের সুদ, মুনাফা হার উচ্চমাত্রার হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প, ব্যবসা ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়ে। উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। ‘ফলে শিল্প, ব্যবসা ও সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলো কখনো কখনো প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই সংশ্লিষ্ট ঋণ, বিনিয়োগ গ্রহীতারা যথাসময়ে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না। এতে ব্যাংকিং খাতে ঋণশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। পাশাপাশি সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়।’
এ প্রেক্ষাপটে শিল্প, ব্যবসা ও সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে অধিক সক্ষমতা অর্জনসহ শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ঋণ-বিনিয়োগ পরিশোধে সক্ষমতা অর্জন ও কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে নিচের সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।
ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব খাতে অশ্রেণিকৃত ঋণ-বিনিয়োগের ওপর সুদ-মুনাফা হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, কোনো ঋণ-বিনিয়োগের ওপর উল্লিখিতভাবে সুদ-মুনাফা হার ধার্য করার পরও যদি সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হন, তাহলে যে সময়ের জন্য খেলাপি হবেন, ওই সময়ের খেলাপি কিস্তি ও চলতি মূলধন ঋণ-বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মোট খেলাপি ঋণ-বিনিয়োগের ওপর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে দণ্ড সুদ-অতিরিক্ত মুনাফা আরোপ করা যাবে।
এ ছাড়া, প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের বিদ্যমান সর্বোচ্চ সুদ-মুনাফার হার ৭ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে।




