উপমহাদেশশিরোনাম

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ক্যানসার রোগীরা

কঠোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি জারিতে ক্যানসার আক্রান্ত কাশ্মীরিরা মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটিতে।
গত বছর আগস্টে সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে নিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে বিজেপি সরকার। সেসময় নিরাপত্তার নামে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় অঞ্চলটিকে। বন্ধ করে দেয়া হয় মোবাইল নেটওয়ার্ক-ইন্টারনেট।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, এমন পরিস্থিতিতে প্রাণ ঝুঁকিতে পড়েন জটিল দুরারোগ্যে আক্রান্ত কাশ্মীরিরা। ব্লাডার টিউমারের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল সানাউল্লাহ দারের। চার মাস দেরি হয়ে যাওয়ায় মারা যান সানাউল্লাহ।
আগস্ট থেকের শুরু থেকে কাশ্মীরে চার মাসেরও বেশি সময় ইন্টারনেট বন্ধ ছিল কাশ্মীরে। পরে টুজি সংযোগ চালু হয়। কিন্তু ধীর গতির ইন্টারনেটের কারণে বিড়ম্বনায় পড়েছেন কাশ্মীরিরা।
সানাউল্লাহর ২০ বছর বয়সী মেয়ে সুমাইয়া জানান, তার বাবার মতো রোগীর জন্য ঠিকঠাক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগই কাশ্মীরে নেই। অপারেশন করার জন্য যেতে হতো মুম্বাইয়ে। কিন্তু অবরুদ্ধ পরিস্থিতির পড়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। অক্টোবরের শেষের দিকে দিল্লির একটি হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়। কিন্তু এতে দেরি হয়ে যায়। সপ্তাহখানেকের মধ্যে মারা যান সানাউল্লাহ।
কাশ্মীরে সানাউল্লাহর চিকিৎসক ওমর বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে অপারেশন হলে উনি হয়তো বেঁচে যেতেন।’
বিরল এক ক্যানসারে আক্রান্ত হাউসবোটের মালিক আবদুল রহিম লাঙ্গো মৃত্যুর প্রহর গুনছেন সানাউল্লাহর মতো।
ওষুধ না-পেয়ে দ্রুত মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে, এমনই আশঙ্কা তার। আগে ভারতের অন্য রাজ্য থেকে ওষুধ আনাতেন। এখন সেই সুযোগ নেই। এমনিতেও কাশ্মীরে বেশির ভাগ মানুষের কোনো কাজ নেই। মুখ থুবড়ে পড়েছে পর্যটন ব্যবসা। প্রতি মাসে ওষুধ কেনার জন্য অর্থও নেই আবদুল রহিমের কাছে।
এদিকে ইন্টারনেট অচলাবস্থার মধ্যে ভিপিএন ব্যবহার করে কিছুটা সমস্যা কাটানোর চেষ্টা করছেন কাশ্মীরিরা। কিন্তু পুলিশের কড়া পদক্ষেপে ভিপিএন ব্যবহারেও বাধার মুখে পড়েছে তারা।
চিকিৎসক ওমর হোয়াটসঅ্যাপে একটি গ্রুপের সদস্য। তিনি জানান, ‘এই গ্রুপের মাধ্যমে আমরা চিকিৎসকেরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করি। সুপারিশ দিই। কিন্তু এখন আমরা কোনো প্রয়োজনীয় কাজই করতে পারছি না।’
তিনি জানান, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রডব্যান্ড সংযোগ রয়েছে, কিন্তু তা শুধু কর্মকর্তাদের জন্যই। ডাক্তার বা ছাত্রদের জন্য নয়। কাজ করছে না কুরিয়ার সার্ভিসও। ফলে অন্য শহর থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ আনা যাচ্ছে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button