কথিত অবৈধ বিদেশিদের আটক রাখতে ভারতের আসাম রাজ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় ‘ডিটেনশন সেন্টার তথা বন্দিশিবির’ নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে রয়েছে।
‘সব মিথ্যা, দেশে কোনো ডিটেনশন ক্যাম্প নেই’- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এমন দাবির পর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
সম্প্রতি বিরোধীদের আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘সব ঝুট হ্যায় (সব মিথ্যা)। দেশে একটি ডিটেনশন সেন্টারও নেই।’
এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ভিডিও পোস্ট করে প্রমাণ দেন, আসাম রাজ্যে বন্দিশিবির নির্মাণ করা হচ্ছে।
বন্দিশিবির ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মরে গেলেও তার রাজ্যে বন্দিশিবির নির্মাণ করতে দেবেন না। তিনি বলেন, ‘এগুলো রাজ্য সরকার করে। আসামে করতে পেরেছে, কারণ ওখানে ওদের সরকার। তোমার অধিকার দিল্লিতে, আমার অধিকার এখানে (পশ্চিমবঙ্গে)।’
রাজনৈতিক এমন বিতর্কের মধ্যে বিশেষ প্রতিবেদনে হিন্দুস্তান টাইমস বলেছে, আসামে ভারতের সবচেয়ে বড় বন্দিশিবির নির্মাণ সম্পন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা।
আসামের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে গোয়ালপাড়ার মাটিয়ায় ২৫ বিঘা জমির ওপর এই বন্দিশিবির নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে প্রায় ৩,০০০ বন্দি রাখা যাবে।
নির্মাণস্থলে থাকা জ্যেষ্ঠ একজন শ্রমিক বলেন, ‘এই মাসে আমাদের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু বর্ষার সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল বিধায় দেরি হচ্ছে। এখন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে সরঞ্জামাদি পাওয়াটাই ভাবনার বিষয়।’
আসামের কারবি অংলং জেলার বাসিন্দা বাসুমাতারি ও তার দলবল মাটিয়ার ওই বন্দিশিবিরের কোয়ার্টারগুলো নির্মাণ করছেন। ১৫ তলার প্রত্যেকটি কোয়ার্টারে ২০০ জন করে বন্দি রাখা হবে। ডিসেম্বরে বন্দিশিবিরের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে রাজ্যের সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, মার্চ মাস নাগাদ বন্দিশিবিরের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে। রাজ্যের অন্যান্য বন্দিশিবিরে রাখা বন্দিদের প্রাথমিকভাবে এখানে স্থানান্তর করা হবে।
নির্মাণাধীন এই বন্দিশিবির ছাড়াও ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আসামের জেলা কারাগারে আরও ছয়টি বন্দিশিবির স্থাপন করা হয়েছে। একশ’টি ফরেনার ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ‘বিদেশি’ ঘোষিত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসন ও মুক্তির আগে আটক রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশে এসব বন্দিশিবির প্রস্তুত করা হয়।
হিন্দুস্তান টাইমস।




