মুশফিকের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে খুলনার জয়
শোয়েব মালিক ঝড়ে খুলনা টাইগার্সকে ১৯০ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল রাজশাহী রয়্যালস। বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারবে তো খুলনা? এই প্রশ্ন যাদের মনে এসেছে তাদের তো বটেই, সবাইকে আসলে মুগ্ধ করলেন মুশফিকুর রহিম। টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে দলকে এনে দিলেন দারুণ এক জয়।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামে দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহীকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা। টস হেরে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৮৯ রানের স্কোর গড়েছিল রাজশাহী। শোয়েব মালিক ৫০ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় খেলেন সর্বোচ্চ ৮৭ রানের ইনিংস।
জবাব দিতে নেমে মুশফিকুর রহিমের ৫১ বলে ৯৬ রানের ইনিংসে ভর করে ২ বল হাতে থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় খুলনা। স্লগ ওভারের আগেই ম্যাচটা হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছিল খুলনা। শেষ ওভারে দলটার প্রয়োজন দাঁড়িয়েছিল ৪ রানের। মুশফিকের সেঞ্চুরির জন্য ৫।
মুশফিকের সেঞ্চুরি করার জন্য তাই প্রয়োজনীয় রানই ছিল না শেষ দিকে। এর মধ্যে রবি বোপারার করা ২০তম ওভারের প্রথম বলটাতে সিঙ্গেল নিলেন মুশফিক। পরের বলে রবি ফ্র্যাইলিঙ্কও সিঙ্গেল নেন। শেষ চার বলে খুলনার প্রয়োজন দাঁড়াল ২ রানের।
তৃতীয় বলে ৯৬ রানে দাঁড়িয়ে থাকা মুশফিক ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়লেন শোয়েব মালিকের হাতে। সেঞ্চুরিটা তাই হলো না তার। তবে খুলনাকে জয় এনে দিলেন ঠিকই। আইপিএল নিলামের দুদিন আগে মুশফিকের এই ইনিংস কি কোনো প্রভাব ফেলবে?
মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন রাইলি রুশো। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় মাত্র ২৫ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় খুলনা। নাজমুল হোসেন শান্ত শূন্য রানে ফেরেন। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ফেরেন ব্যক্তিগত ৭ রানে।
এরপর তৃতীয় উইকেটে মুশফিক-রুশো যোগ করেন ৭২ রান। রুশো ৩৫ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ করে ফেরেন। এরপর মুশফিককে সঙ্গ দেন শামসুর রহমান শুভ। ২০ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ রান করেন তিনি।
শেষের কাজে মুশফিককে সঙ্গ দেন ফাইলিঙ্ক। উইনিং রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। ৬ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ১৪ রান করেন তিনি। রাজশাহীর পক্ষে আন্দ্রে রাসেল সর্বাধিক ২ উইকেট নেন।
এর আগে সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও পারেননি শোয়েব মালিক। তবে দল পেয়েছিল এবারের আসরের সেরা পুঁজি। পরে অবশ্য তাদের রান টপকে খুলনার রানটাই এখন পর্যন্ত আসরের সর্বোচ্চ।
মালিকের ইনিংস ছাড়াও রাজশাহীর ইনিংসে রবি বোপারার ইনিংস উল্লেখ করার মতো। ২৬ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন তিনি ৪০ রানে। দুর্দান্ত ইনিংসে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।
দুই ম্যাচে দুই জয়ে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে সবার ওপরে খুলনা। অন্যদিকে প্রথম হারের স্বাদ পাওয়া রাজশাহীর পয়েন্ট তিন ম্যাচে ৪। ঢাকায় নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছিল দলটি।




