উপমহাদেশশিরোনাম

মুসলিম ছাড়া সবাই ভারতের নাগরিকত্ব পাবে: অমিত শাহ

আসামের মতো সমগ্র ভারতে নাগরিকপুঞ্জি বা এনআরসি করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে তাতে কোনও ধর্মের মানুষকেই বিড়ম্বনায় ফেলা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২০ নভেম্বর) সংসদে তিনি বলেন, আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি সারাদেশেই পরিচালিত হবে, এর জন্য কোনও ধর্মের কারোরই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিৎ নয়।
তিনি বলেন, এই পঞ্জি তৈরিতে কখনো কোনো ধর্মকে নিশানায় নেওয়া হয়নি। তাই কোনো ধর্মের কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
ভারতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষ রাজ্যসভায় এই কথা জানানোর পাশাপাশি বুধবার অমিত শাহ বলেন, প্রতিবেশী তিন দেশের নিপীড়িত ও অত্যাচারিত অমুসলমান শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তার কথায় স্পষ্ট যে মুসলমান ছাড়া সব ধর্মের লোকই ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন।
রাজ্যসভায় অমিত শাহ বলেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান এবং পারসি শরণার্থীদেরই নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত। তাঁদের ভারতের নাগরিক করে তুলতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রয়োজন। কিন্তু হিন্দু, খ্রিস্টান-সহ বাকিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বললেও, শাহ কেন মুসলিমদের এড়িয়ে গেলেন, তা জানতে চান এনসিপি সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন।
জবাবে অমিত শাহ বলেন, আপনি এনআরসি এবং নাগরিক সংশোধনী বিলের মধ্য গুলিয়ে ফেলছেন। সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতেই সব কিছু হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস যাই হোক না কেন, দেশের সব নাগরিকেরই নাম নথিভুক্ত হবে এনআরসি তালিকায়। দেশের সর্বত্র এনআরসি হবে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে এনআরসি তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায়, ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে পারেননি। এই ১৯ লাখের অধিকাংশই হিন্দু। এর ফলে রাজ্যের বিজেপি নেতারা এনআরসি তালিকা গ্রহণে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁরা নতুন করে তালিকা তৈরির দাবিও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বিজেপির ঘোষিত সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে চলে আসা অমুসলমান শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই সংক্রান্ত নাগরিকত্ব সংশোধন বিল সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে আনার কথা। এ নিয়ে অধিবেশন শুরুর দিন থেকেই বিরোধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button