রাজনীতিশিরোনাম

অমিত সাহা ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় আসামি অমিত সাহাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তিনি ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ছিলেন।
আজ সোমবার ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে এই তথ্য উঠে এসেছে যে, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা উক্ত ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথোপকথনের সময় উক্ত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অধিকতর তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় অমিত সাহাকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হলো।’
আবরারকে যে কক্ষে খুন করা হয়, সেই কক্ষের বাসিন্দা অমিত সাহা। গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর সবুজবাগের কালিবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর হাতে নির্দয় পিটুনির শিকার হয়ে মারা যান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ ব্যাচ) ছাত্র আবরার ফাহাদ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এর আগে ৩ অক্টোবর একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে আবরারকে ২০১১ নম্বর রুমে ডেকে সতর্ক করেছিলেন অমিত সাহা। হত্যাকাণ্ডের দিন রাসেল ও ফুয়াদ আবরারকে মারধর করার কথা বলেন। এটাকে তাদের ভাষায় ‘ট্রিটমেন্ট দিতে’ বলা হয়।
আবরারের মৃত্যুর পর দায়ের করা মামলায় ২০১১ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা অমিত সাহার নাম না থাকা নিয়ে চলছিল দেশজুড়ে বিতর্ক। সবশেষ এতে নতুন করে মাত্রা যোগ করে অমিত সাহার একটি মেসেজ ফাঁস। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ওঠে।
এতে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগে আবরারের সহপাঠী এক শিক্ষার্থীকে অমিত সাহা মেসেঞ্জারে জিজ্ঞেস করেছেন, আবরার ফাহাদ কি হলে আছে? এ ধরনের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১৭তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থী নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তারই এক সিনিয়র এ বিষয়টি ফেসবুকে প্রকাশ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button