ক্যামেরার সামনেই মিথ্যা বলে বিতর্কে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

সময়টা মোটেও ভাল যাচ্ছে না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের। যাকে বলে একেবারে রাহুর দৃষ্টি! ব্রেক্সিট জটে জেরবার হয়ে ঘরে-বাইরে কোথায় হালে পানি পাচ্ছেন না জনসন। তার উপর এবার একেবারে ক্যামেরার সামনে মিথ্যা বলে বিতর্কে জড়ালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত বুধবার লন্ডনের হুইপস ক্রস হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন জনসন। সেখানেই তাঁর পথ আটকান এক ব্যক্তি। ওই হাসপাতালেই চিকিত্সাধীন রয়েছে তাঁর ক্যানসার আক্রান্ত সন্তান। জনসনের সামনেই তাঁর প্রবল সমালোচনা করেন ওমর সালেম নামের ওই ব্যক্তি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রচার পাবার উদ্দেশ্যেই জনসন হাসপাতালে এসেছেন। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কেন ছাঁটাই করা হয়েছে, সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর জবাব চান তিনি। এরপরই জনসন তাঁকে বলেন, ‘এখানে কোনও সংবাদমাধ্যম নেই।’ এদিকে, eই সমস্ত ঘটনা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায়। মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় ওই ভিডিও। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যখন এই কথা বলছেন, তখন পাশেই দাঁড়িয়ে একগাদা চিত্রসাংবাদিক সেই ঘটনার ছবি তুলছেন। ক্ষুব্ধ ওই ব্যক্তি এরপর বলেন, ‘আপনি কী বলতে চাইছেন, এখানে কোনও সাংবাদিক নেই? তাহলে এরা কারা?’
এদিকে এই ঘটনায় দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। বরিসপন্থীদের দাবি, ওমর সালেম নামে ওই ব্যক্তি আদতে দেশের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির সক্রিয় সদস্য। স্বয়ং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আমি খুবই খুশি হয়েছি যে ওই ভদ্রলোক তাঁর সমস্যা আমাকে জানাতে পেরেছেন। এতে আমি বিব্রত হইনি। ওঁরা আমার সঙ্গে সহমত হবেন কিনা, তাতে কিছু যায় আসে না।’
উল্লেখ্য, কার্যত চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথে ব্রিটেন৷ মসনদ থেকে টেরেসা মে’র প্রস্থানেও কিছুতেই কাটছে না জট৷ প্রধানমন্ত্রী পদে বসে মুখে আত্মবিশ্বাস দেখালেও, হালে পানি পাচ্ছেন না মে’র উত্তরসূরী বরিস জনসন৷ তাঁকে রফাসূত্র খুঁজে বের করতে ৩০ দিন সময় দিয়েছিলেন জার্মানির চান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মর্কেল৷ সেই মেয়াদও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে৷ এর অন্যথায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিনা চুক্তিতে প্রস্থান করতে হবে ব্রিটেনকে৷
সুত্র : সংবাদ প্রতিদিন



