শিক্ষাশিরোনাম

একদিনেই জবি ছাত্রলীগের দুই লাখ টাকার চাঁদা দাবি!

চাঁদা কম দেওয়ায় দোকানীকে মারধর, ধর্মঘটে দোকানীরা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সামনের ফাঁকা জায়গার (টিএসসি নামে পরিচিত) দোকান থেকে চাঁদাবাজি করছে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল-রাসেলের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে রদবদলের এক দিনে বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তারা। চাঁদার টাকা কম দেওয়ায় খিচুড়ির পাতিল ছিনতাই ও দোকানিদের পিটিয়ে আহত করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

টিএসসি’র দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা তাদের কর্মীদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন চাঁদাবাজি করে আসছিল। দোকান বসানোর সময় প্রতি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা করে অগ্রিম (অফেরতযোগ্য) নেওয়া হয়েছিল। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির পর এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতে করে টিএসসিতে চাঁদাবাজির ব্যাপকতা বেড়ে যায়।
জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি রদবদলের রাতে ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেন এবং পরদিন মিষ্টি খাওয়ার নাম করে টিএসসিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলামের একান্ত আস্থাভাজন কর্মী অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ৭ম ব্যাচের মাসুম বিল্লাহ, ৭ম ব্যাচের আলমগীর মুন্সী, বাংলা বিভাগ ৭ম ব্যাচের সাইফ আহমেদ লিখন, ম্যানেজমেন্ট ১০ম ব্যাচের সামিউল তাছাহাব শিশির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের একনিষ্ঠ কর্মী ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৭ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইংরেজি বিভাগ ৯ম ব্যাচের কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১২-১৫ জন গিয়ে দোকানিদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় দোকানিরা চাঁদা কম দেওয়ায় তাদের মারধর করা হয়। এক খিচুড়ি দোকানির পাতিল ছিনতাই করে নিয়ে আসে তারা। এরপর তারা ক্যাশ থেকে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা নিয়ে চলে যায়। এর প্রতিবাদে দোকানিরা ধর্মঘট ডেকেছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দোকানি বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় মাছুম, মামুন, আলমগীর, লিখন, শিশির, কামরুলসহ ১২-১৫ জন টিএসসিতে এসে প্রতি দোকান থেকে ২০ হাজার করে ও সিঙ্গারা সমুচার দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক চাঁদা দাবি করে। এ সময় দোকানিরা এতো টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে দোকানদার ইমনকে পাইপ দিয়ে মারধর শুরু করে। তাকে বাঁচাতে এলে আরো দুই দোকানিকে মারধর করে তারা। এরপর দোকানের ক্যাশ হাতিয়ে সব দোকান থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ও সিগারেটের প্যাক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এক খিচুড়ির দোকানের ক্যাশে টাকা না থাকায় খিচুড়ির পাতিল ছিনতাই করে নিয়ে আসে। পাশের বিকাশের দোকান থেকে ক্যাশের পাশাপাশি ৬ হাজার টাকা বিকাশ করে নিয়ে যায়।
চাঁদা কম দেওয়ায় খিচুড়ির পাতিল ছিনতাই ও দোকানিদের পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করছেন দোকানিরা। ছবি: ইত্তেফাক
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টিএসসিতে কমপক্ষে ৯টি চা দোকান, খিচুরি দোকান ৪টি, ১টি সমুচা-সিংগাড়ার দোকান, ১টি শুকনো খাবারের দোকান, ১টি শরবতের দোকান ও ১টি বিকাশ-ফ্লাক্সিলোডের দোকান। ক্যাম্পাস খোলা থাকলে মূল ফটকের পাশেই সকাল থেকেই বসে বেশ কয়েকটি ঝালমুড়ি, চটপটির দোকানসহ হালিমের দোকান। চায়ের দোকান থেকে প্রতিদিন ১৫০ টাকা হিসেবে মাসে ৪০ হাজার ৫ শ, সমুচা দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০০ হিসেবে মাসে ১৫ হাজার, খিচুরি দোকান থেকে প্রতিদিন ৪০০ হিসেবে ৪৮ হাজার ও রিচার্জের দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে মাসিক ৩ হাজার টাকা চাঁদা তুলে থাকে। এছাড়া মূল ফটকের সামনের দোকান থেকেও নেওয়া হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতিমাসে প্রায় লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তুলে আসছিল জবি ছাত্রলীগের নেতারা।
জবি ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলাম এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি প্রথমে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপর বলেন, টিএসসিতে চাঁদাবাজির বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি এখন জেনেছি, খোঁজ নিয়ে দেখবো।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, র‌্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে চাঁদাবাজদের একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করছি। শিগগিরই আমরা এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও নেবো। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা দরকার।
সূত্রাপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, টিএসসিতে চাঁদাবাজির বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। চাঁদাবাজির বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স রয়েছি। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button