সকাল হলেই কঠিন পরীক্ষার সমাধানে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আফগানদের হাতে আছে আরো দুই উইকেট। সকালে শুরুতেই যদি তাদের দ্রুত ফেরানো যায় তবে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্যটা কিছুটা কমবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করতে হবে প্রায় দুই দিনের অল্প কম সময়। লক্ষ্য যদি ৪০০ হয় দেখে শুনে খেললে টাইগারদের প্রায় দুদিনের মতোই ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ধৈর্য্যশীল ব্যাটিং ছাড়া ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ম্যাচ ড্র করতে হলে ব্যাট করতে হবে শেষ দিন পর্যন্ত পুরো সময়জুড়ে। জিততে হলেও পঞ্চমদিন শেষ সেশন পর্যন্ত ম্যাচ গড়াতে পারে।
চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা সবসময়ই ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন। তাছাড়া প্রথম ইনিংসে আফগান স্পিনাররা পিচ থেকে যে রকম সুবিধা পেয়েছেন, তাতে অসম্ভব কিছুই করে দেখাতে হবে স্বাগতিকদের।
এছাড়া সমাধান আছে বৃষ্টি । যদি তুমুল বৃষ্টি এসে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পিচ ভাসিয়ে দেয়, তাহলে প্রকৃত পক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি জিতবে কোন দল? রবি ও সোমবার চট্টগ্রামে হতে পারে তুমুল বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে এই কথা।
খেলা ভেসে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। তা যদি হয় তাহলেই বরং বেঁচে যাবে বাংলাদেশ। আর যদি কাছের বঙ্গোপসাগরের বাতাস এসে তাড়িয়ে নেয় বৃষ্টি, তাহলে রশিদ খানদের স্পিনে উড়ে যাওয়ার শঙ্কাতেই থাকবে বাংলাদেশ দল। কারণ তিন দিন পর ম্যাচের যা অবস্থা তাতে অতি আশাবাদীর পক্ষেও বাংলাদেশের হয়ে বাজি ধরার সাহস করা মুশকিল। পীড়াদায়ক হলেও টেস্টের নবীন আফগানিস্তানের বিপক্ষে এমন রুঢ় বাস্তবতার সামনেই পড়েছে সাকিব আল হাসানের দল।
বাংলাদেশ কী পারবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি নিজেদের করে নিতে? জিততে হলে রেকর্ডসংখ্যক রান পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে।
প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানে এগিয়ে থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসেও আফগান ব্যাটসম্যানরা ভালোই ব্যাট করছে টাইগার স্পিনদের বিপক্ষে। তৃতীয় দিন শেষে ৮৩.৩ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৭ রান সংগ্রহ করেছে আফগানরা।
এই মুহূর্তে আফগানরা ইনিংস ছেড়ে দিলে বাংলাদেশকে জিততে হলে করতে হবে ৩৭৫ রান। ১৪২ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার ঘটনা আছে আর মাত্র ৭টি। নিশ্চিতভাবেই এই লিড আরও বেড়ে বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও বড় হওয়ার কথা।
আর বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড লিডের ধারেকাছেও নেই। ২০০৯ সালে গ্রানাডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৭ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ।
যদি পরিসংখ্যানটা মেলাতে হয় চট্টগ্রামের মাঠ নিয়ে, তাহলে আরও হতাশার খবর আছে সাকিবদের জন্য। চট্টগ্রামে কখনোই রান তাড়া করে টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এমনকি চতুর্থ ইনিংসে ৩৩১ রানের বেশি করতেও পারেনি। অর্থাৎ আফগানিস্তানকে হারাতে হলে রেকর্ড বই রীতিমতো ওলটপালট করতে হবে সাকিবদের।
সকাল হলেই কঠিন পরীক্ষার সমাধানে মাঠে নামছে বাংলাদেশ।



