বগুড়ার শেরপুরে মন্দিরের নাম করে ভূমিদস্যুদের বিধবা জমি দখল।

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে গাড়ীদহ ইউনিয়নের নিশি পাড়া এলাকায় এক অসহায় বিধবা নারীর বসত বাড়ী ভূমিদস্যুদের হামলায় ঘর বাড়ী ভাংচুর, মারপিট ও নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় রণবীর বালা ঘাটপার নিশি পাড়া এলাকার রণবীর বালা মৌজার সাবেক ৯৮ হাল ১৫৯ নং দাগে সম্পত্তি মুকুন্দ ঋষি ১০১ সিএস মুলে মালিক হয়ে মৃত্যুবরণ করিলে তাহার ত্যাক্ত সম্পত্তি কন্যা পূর্ণদাসী তার স্বামী নিতাই ঋষি এর নামে এম আর আর ৭৭ নং খতিয়ান থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাহার ত্যাক্ত সম্পত্তি এবং মুকুন্দ ঋষি এর সম্পত্তি রবিন চন্দ্র দাস এবং নিমাই চন্দ্র দাস হিন্দু ফারায়েজ মোতাবেক অংশ প্রাপ্ত হইয়া বর্তমান মাঠ বুজারত ১২ ডিপি ২৭৯ নং খতিয়ান তাদের নিজ নামে প্রস্তুত করিয়া নেয়। পরে নিমাই চন্দ্র মৃত্যুবরণ করিলে তাহার সম্পত্তি বিধবা নারী নিমাই চন্দ্র কন্যা সাবিত্রী সহ তার দুই পুত্র গোপাল এবং গোবিন্দ ভোগ দখল করিয়া আসিতেছিল।
কিন্তু রবিন চন্দ্র দাস এবং তার ভাতিজি সাবিত্রী অসহায় গরীব বলে, মৃত কমোদ চন্দ্র দাসের ছেলে ভূমিদস্যু দখলবাজ টাউট বাটপার ও মামলাবাজ শ্রী বিশ্বনাথ দাস ওরফে বিশা সম্পত্তির লোভে, ২০১৭ সালে বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭২ নং মোকদ্দমায় বাদী হয়ে মামলা করে। মামলা চলাকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাজির করার আদেশ জারি করলে ভূমিদস্যু শ্রী বিশ্বনাথ দাস ওরফে বিশা আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হলে। মামলায় হেরে যাওয়ার ভয়ে স্বইচ্ছায় ০১/০৭/২০১৮ সালে মামলা তুলে নেয়। এবং ১৭২ নং মামলার ৯ নং সাক্ষী একই এলাকার শ্রী খগেন চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী সুভাষ চন্দ্র দাসকে দিয়ে শেরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু ভূমিদস্যু বিশ্বনাথ এবং সুভাষচন্দ্র নথিপত্রের অভাবে কোন সুরাহা না পেয়ে। জমির প্রকৃত মালিক রবিন চন্দ্র দাস কে এবং সাবিত্রী কে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

অবশেষে এলাকার ভূমিদস্য দখলবাজ মামলাবাজ টাউট বাটপার বলে খ্যাত শ্রী বিশ্বনাথ ওরফে বিশা ঐ সম্পত্তি তার নিজের বলে দাবী করে ৩০ শে আগষ্ট ২০১৯ দুপুরে রাধা কৃষ্ণ মন্দিরের নাম করে এলাকার কিছু ধর্মভীরু এবং টাউট-বাটপারদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র রামদা,শাবল,লাঠি সোটা নিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে জবরদস্তি রাধাকৃষ্ণের মূর্তি স্থাপন করে। রবিন চন্দ্র এবং সাবিত্রী মূর্তি স্থাপনের বাধা দেওয়ায় তাদের মারপিট করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এলাকা ছেরে চলে যাওয়ার হুমকী দেয়। না গেলে তাদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে শাসায়। এ সময় সাবিত্রীর ঘরে রক্ষিত ছেলের শ্বশুর বাড়ী হতে পাওয়া ৪০.০০০ হাজার টাকা ও সমিতি থেকে তোলা ৫০.০০০ হাজার টাকাসহ মোট ৯০.০০০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার কারণে রবিন চন্দ্রের পরিবার এবং সাবিত্রীর পরিবার মানবতার সঙ্গে জীবন যাপন করছে। এ বিষয়ে এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বললে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন বিশ্বনাথ ওরফে বিশা শুধু এদের জমি নয় গ্রামের অনেকের জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে। শুধু তাই নয় অনেক চিটিং বাটপারি করে লক্ষ লক্ষ টাকা অসহায় মানুষদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে আদায় করেছে।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানায় অভিযোগ করা হলে এস,আই আব্দুল গফুর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে উভয় পক্ষকে সঠিক কাগজ পত্র নিয়ে থানায় আসতে বলে।
এ বিষয়ে এস আই গফুরের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন।




