
পানি নিয়ে সম্পর্ক কখনই ভালো ছিল না প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও নেপালের। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক বছরের সেই দা-কুমড়া সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে যেতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই শুরু হয় ঝগড়া-মনোমালিন্য। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গেছে দেশ দুটির বহু অঞ্চল। সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক এলাকাও।
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বন্যায় এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। পানিবন্দি ও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ৩০ লাখের বেশি। ভয়াবহ এই পরিস্থিতি, ভোগান্তি ও প্রাণহানির জন্য একে অপরকে দায়ী করছেন দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা।
কিন্তু নেপালসহ এ অঞ্চলের বন্যার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বছরের পর বছর ধরে নদী নিয়ন্ত্রণ বা পানির রাজনীতির মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ‘বন্যার খেলা’ চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি।
ভারত ও নেপালের মধ্যে অভিন্ন সীমান্ত রয়েছে প্রায় এক হাজার ৮০০ কিলোমিটার। ভারতের উত্তরাঞ্চলে প্রবাহিত হওয়া প্রায় ৬ হাজার নদ-নদী ও জলধারার উৎপত্তি নেপাল। শুষ্ক মৌসুমে ভারতের গঙ্গা নদীর প্রায় ৭০ শতাংশ পানিই আসে নেপাল থেকে। এসব নদীতে পানি বাড়লেই নেপাল ও ভারতে সৃষ্টি হয় আগ্রাসী বন্যা।
ভারত পানি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে বাঁধ নির্মাণ করায় কয়েক বছর ধরে নেপালে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ২০১৬ সালে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষও হয়। নেপালের অভিযোগ, ভারতের ১০টি বাঁধের কারণে প্রতি বছর নেপালে কয়েক হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হচ্ছে। তবে ভারতের দাবি, সীমান্তে বাঁধ নয় রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
দুই দেশের কর্মকর্তাদের আলোচনায় ইতিবাচক ফল না আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




