শিক্ষাশিরোনাম

চাকরির বয়সসীমা: দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সব ধরনের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি পূরণে সরকারকে বুধবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বুধবারের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী যে যুক্তি দিয়েছেন তা খণ্ডন করে পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের যুক্তির কথা জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র কল্যাণ পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মুজাম্মেল মিয়াজী।
চীন সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চাকরির বয়স ৩৫ করার বিপরীতে যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিসিএস পরীক্ষায় ২৯ বছরের ঊর্ধ্বে পরীক্ষার্থীদের ফল খারাপ হচ্ছে, ৩০-এর পর নিয়োগ পেলে সংসার সন্তান সামলাতে কষ্ট হবে, পেনশনের ঝামেলা বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের যৌক্তিক প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রথমত ২৯ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীদের ফলাফল যদি খারাপ হয়, তাহলে প্রতিযোগিতায় জুনিয়ররাই এগিয়ে থাকবে এবং নতুনরা বেশি সুযোগ পাবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী গত কয়েকদিন আগে সংসদে বলেছেন চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি করলে নতুনরা বঞ্চিত হবেন। তাহলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্ববিরোধী কথা বলছেন এবং অযৌক্তিক মন্তব্য দাঁড় করিয়েছেন। আর বয়স বৃদ্ধিতে রেজাল্ট বড় কোনও বিষয় না। আমরা তো আবেদনের সুযোগ চেয়েছি মাত্র।
তারা বলেন, এছাড়া সংসার সামলানোর সঙ্গে আবেদনের বয়স বৃদ্ধির কোনও সম্পর্ক নেই। ১৯ থেকে শুরু করে যেকোনও বয়সী মেয়ে এবং ২৫ থেকে শুরু করে যেকোনও বয়সী ছেলের বিয়ের বয়স শুরু হয়। তাহলে চাকরি উপযোগী বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করলে লাভ কি? মোটামুটি শিক্ষিত হওয়ার মতো শিক্ষাটুকু অর্জন করলেই হয়। বরং বয়সসীমা ৩০ থাকার কারণে সংসার সামলাতে গিয়ে অনেক মেয়ের অর্জিত সনদগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে রয়। যদি বয়সসীমা বাড়ানো হয় তাতে মেয়েরা বরং আরও আবেদন করার সুযোগ পেয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে। তৃতীয়ত, পেনশনের সঙ্গে চাকরির আবেদনের বয়সসীমার বাড়ানোর কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ জাতির প্রয়োজনে যেকোনও সময় সংবিধান বার বার পরিবর্তন হচ্ছে এবং হবে। আর চাকরি হলে তো পেনশনের কথা আসবে। আমাদের আগে চাকরি দরকার, তারপর পেনশন।
পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button