
ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর রাহুল গান্ধীর জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ফল প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকে কংগ্রসের এই ভরাডুবির পরেই দলীয় সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।
এবার রাহুলের পথ ধরেছেন দলের অন্য নেতারাও। রীতিমত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর অফিসে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ভিড় লেগে গেছে।
এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের রাজ বাব্বারসহ তিনটি রাজ্যের কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধীর কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের ফল বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে ওঠে। এমন শোচনীয় পরাজয়ের কারণ খুঁজতে ২৫ মে কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছে। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটির এ বৈঠকে দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার প্রস্তাব দেন রাহুল গান্ধী। তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস।
রাহুল গান্ধীর ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণেই কংগ্রেসের এমন পরাজয় বলে মনে করছেন দলের অন্য নেতারা। তাই কংগ্রেস থেকে গণহারে পদত্যাগ করছেন বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ নেতারা।
এবার দ্বিতীয়বারের মতো নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে দিল্লির মসনদে বসতে যাচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবার ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩৫২টিতে জয় লাভ করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৪৪টি আসন পেয়ে হারে কংগ্রেস। আর এবার তারা পেয়েছে মাত্র ৫২ আসন।
এমন পরাজয়ের কারণ খোঁজার চেষ্টা চলে বৈঠকে। এবারের নির্বাচনের সময় সারাদেশে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন রাহুল ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তারপরও নির্বাচনের এ ফল বিপর্যয় দলের জন্য অনেক বড় ধাক্কা।
মোদির বিরুদ্ধে রাহুলের চৌকিদার চোর হ্যায় প্রচারণা ভোটারদের মন জয় করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, মোদি নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে নিজেকে ভোটারদের কাছে চৌকিদার বলে উপস্থাপন করতেন।
১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দলটি নেতৃত্ব দেয়। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয় কংগ্রেস। সেই থেকে নেহেরু-গান্ধী পরিবারই কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএর নিরঙ্কুশ বিজয় চমকে দিয়েছে সবাইকে। এনডিএ দখলে নিয়েছে ৩৫০টির বেশি আসন। এমনকি বিজেপি একক দল হিসেবেও তিনশর গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে।
বিজেপির এই বিপুল বিক্রমে জয়ে একদিকে যেমন নরেন্দ্র মোদি আবার ভারতের ক্ষমতায় বসতে চলেছেন,অন্যদিকে মুখ লুকানোর অবস্থা হয়েছে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর।
কংগ্রেসের জন্য আরেকটি বড় দুঃসংবাদ হলো এবারের লোকসভা ভোটের ফলাফলের হিসাব অনুযায়ী ভারতের সংসদে বিরোধী দলের তকমাও খোয়াতে হচ্ছে কংগ্রেস। এবারের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আরো একবার ব্যর্থ হলো কংগ্রেস। ২০১৪ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৪৪টি আসন। যার ফলে গত লোকসভাতে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের তকমা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল কংগ্রেস।
কারণ, ভারতের মোট ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিরোধী দলের তকমা পেতে গেলে অন্তত ১০ শতাংশ আসনে জয়ী হতে হয়। যেখানে ২০১৪ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৪৪টি আসন। আর এবার কংগ্রেস ৪৪টি আসনের গণ্ডি পার হলেও মাত্র ৫২টি আসনে এসে আটকে গেছে তারা। অথচ লোকসভায় বিরোধী রাজনৈতিক দল হতে গেলে প্রয়োজন অন্তত ৫৫টি আসন। ফলে এবারও সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো কংগ্রেস।




