পানির মধ্যেই লাশ দাফন!
আত্মীয়ের লাশ নিয়ে কবরস্থানে এসেছিলেন সোহেল মিয়া। কবর খুঁড়েছিলেনও, কিন্তু সেই কবর তলিয়ে গেছে পানিতে। কোনোভাবেই সেই কবরে আর দাফন করতে পারলেন না আত্মীয়কে। শেষমেষ লাশ নিয়ে অন্য এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন সোহেল মিয়া। এমন দৃশ্যে স্থানীয় সকলের চোখে মুখেই তখন চরম ক্ষোভের ছাপ।
কারণ সোহেল মিয়া চলে গেলেও স্থানীয়রা এমন জলাবদ্ধময় কবরস্থানেই দাফন করেন লাশ। এমন অবস্থা নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার ২৪ নং ওয়ার্ডের দেউলী চৌরাপাড়া কবরস্থানের। জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই কবরস্থানটিতে আশপাশের কয়েকটি মহল্লার মুসলিম জনগোষ্ঠীর কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডসহ আশপাশে ৪/৫টি এলাকার জন্য ব্যবহৃত চৌরাপাড়া কবরস্থানের জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘদিনের। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই কবরস্থানে জলাবদ্ধতা সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু এ সংকট নিরসনে কারো সহায়তা এখনো পায়নি এলাকাবাসী।
কবর খুঁড়লে পানিতে কবর তলিয়ে যায়। এই অবস্থায় কবর দিতে হলে লাশের নিচে কলাগাছ ও বালু দিয়ে কবর দিতে হয়। তারপরও লাশের রক্ত ভেসে বেরিয়ে আসে। এভাবেই লাশ দাফন কাজ চলছে।
স্থানীয়রা জানায়, একটু বৃষ্টি হলেই কিংবা বর্ষা মৌসুমে এই কবরস্থানে হাটু থেকে বুক পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। যে কারণে কবরস্থান ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া অত্র এলাকায় কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই।
পাশাপাশি যাদের কবর দেয়া হয়েছে সেগুলোও পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে কবর জিয়ারত করা যাচ্ছে না।
আর মেয়র আইভী একাধিকবার সংস্কার কাজ ও উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দিয়ে তা রাখেনি। এ বিষয়ে এলাকার কাউন্সিলর ও মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠদের কাছে জানতে চাইলেই বলা হয়, শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে। কিন্তু আদৌ কোনো কাজ হচ্ছে না।
দেউলী বড় সমাজ মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লী মো. ইমরান হাসান বলেন, ‘আশেপাশের ৩-৪ মসজিদের অধীনে বসবাসকারী লোকজনদের এই কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে জলাবদ্ধতার কারণে কবর দেয়া যায় না। এ নিয়ে নানা সংকট তৈরি হচ্ছে। এই দুরাবস্থা দেখে মেয়র আইভী এই কবরস্থানের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দিয়েছেন একাধিকবার।’
তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেনও বিভিন্ন সময় এখানে এসে কবরস্থানের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়িত করেনি।’
স্থানীয় কাউন্সিলর আফজাল হোসেন জানান, সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে সেটি বলতে পারেননি তিনি।




